বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না খুবি শিক্ষার্থী মৌমিতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুবি আইন বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মরদেহ দাহ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ওলিপুর নর্নিয়া গ্রামের শ্মশানে তার দেহ দাহ করা হয়।

এদিকে খুলনা জেলা পরিষদের সিসি ফুটেজ অস্পষ্ট থাকায় ঘাতক প্রাইভেটকার শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মামলা দায়ের করবেন না বলে জানিয়েছে নিহতের বাবা তরুণ কান্তি হালদার।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কবির হোসেন জানান, সোমবার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর মৌমিতা হালদারের মরদেহ রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরের পার্শ্ববর্তী রুস্তুমপুরে নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় মৌমিতা হালদারের শবদাহ করা হয়েছে।

এদিকে নিহত মৌমিতাকে বহনকারী রিকশাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সারাদিন খুলনা থানার দু’জন এসআই জেলা পরিষদের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সার্ভার সমস্যার কারণে ফুটেজগুলো পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়নি।

খুলনা থানার এসআই দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘জেলা পরিষদে ২৫-৩০টা ক্যামেরা রয়েছে। মঙ্গলবার ২-৩ ঘণ্টা ধরে কাজ করেছি। সার্ভার সমস্যা থাকায় পরিষ্কার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

নিহত খুবি শিক্ষার্থীর বাবা তরুণ কান্তি হালদার খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের প্রফেসর। তিনি বলেন, এক মেয়ে ও দু’ছেলের মধ্যে মৌমিতা ছিলেন সবার বড়। খুবি’র আইন বিভাগ থেকে পাশ করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার বিরুদ্ধে মামলা করব। মামলা করে কারও কোনো দিন কোনো কিছু হয়নি। এ ঘটনায়ও কিছু হবেনা। আমার বুকের ধন যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের বিচার আমি ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি এর বিচার করবেন।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার বাগমারা নতুন ফ্লাটের ইলেকট্রিক মালামাল কিনতে বাবা তরণ কান্তি হালদার ও মেয়ে মৌমিতা হালদার ডাকবাংলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেটে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি রিকশাযোগে স্থানীয় মুন্সিপাড়া বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে রিকশা থেকে তারা দু’জন পড়ে যান। বাবার হাত-পায়ে ক্ষত হলেও দুর্ঘটনায় মেয়ে মৌমিতার মৃত্যু হয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন