সোমবার । ১৬ই মার্চ, ২০২৬ । ২রা চৈত্র, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বজলুর রশিদ আজাদ। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে খলসের বাজারে গিয়ে ওঠেন। খলসের বাজার থেকে বয়রা বর্ডারে (ভারতে) পৌঁছান। বয়রা বর্ডার থেকে বশিরহাট। বশিরহাট থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য এম এ গফুর এর বাড়ি। সেখানে রহমতউল্লাহ দাদুর ভাই ঈছা গাজীর নিকট থেকে সংবাদ নিয়ে বাকুন্দিয়া ক্যাম্পে যেয়ে আনসার ভাইয়ের সাথে মিলিত হন। ক্যাম্পে ভাইয়ের ছোট ভাই হিসেবে খুবই আতিথিয়েতা পেলেন।

ক্যাম্পে দেখা হয় কমার্স কলেজের ভিপি আজাদ’র সাথে। আজাদ জানালো শিক্ষিত হিসেবে মুজিববাহিনী তৈরি হয়েছে, তুমি যেতে ইচ্ছুক? ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। তিনি মতামত দিলেন। আজাদ চিঠি দিয়ে পাঠালেন। ঠিকানায় যেয়ে দেখলেন টুটপাড়ার শেখ আব্দুস সালাম ও শেখ আব্দুস সাত্তার। সাত্তার তাদের বশিরহাটের টেট্টা ক্যাম্পে পাঠালেন। কিছুদিন পর ক্যাম্প থেকে দমদম এয়ার পোর্টের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। পরের দিন সেনা কার্গো বিমানে করে অজানা এক এয়ার পোর্টে অবস্থান নেন। তখন ক্যাম্পের নাম জানা গেল দেরাদুন মিলিটারি ট্রেনিং ক্যাম্প।

ম্যাগাজিন খোলা থেকে শুরু করে ৩ ইঞ্চি মর্টার পর্যন্ত অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এক মাস পনেরো দিন পর ফিরে আসেন। দেরাদুন থেকে ট্রেনযোগে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসেন। সবার হাতে অস্ত্র পৌঁছে গেল। অস্ত্র এসএলআর পেলেন আর পাঁচশত গুলি ও ২টি গ্রেনেড ১টি হেডারসেভ পেলেন। পর দিন ইছামতি নদী পার হয়ে রাত ৮টা থেকে পায়ে হেটে সাতক্ষীরায় পৌঁছান সকাল ৭টায়। ওখান থেকে নৌকা করে পাতড়াবুনিয়া মুজিববাহিনী হেড কোয়ার্টারে পৌঁছান।

আসার সময় বটিয়াঘাটায় কড়িয়া গ্রামে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ হয় এবং তারা ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জন অন্যরা বিভক্ত হয়ে সকাল ৭টায় আনন্দনগর গ্রামে পৌঁছায়। এ অবস্থায় নূর মোহাম্মদ এর সহযোগিতায় আলাইপুর ক্যাম্প তৈরি করেন। ওখান থেকে অস্ত্র সংগ্রহের কাজ করেন। কয়েক দিন পর খবর আসে গল্লামারী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন