খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাতসহ নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার, সামাজিক কার্যক্রম এবং যানবাহন চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম, সকাল ৯টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহে পরিচালনা কমিটি নিজ নিজ সুবিধামতো জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।
ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তা নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউজ ময়দান জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধামতো সময়ে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব তুলে ধরে সেমিনার বা আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু আনন্দমেলার আয়োজন করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।
নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হবে। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে খোলা পিকআপ বা ট্রাকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি রোধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ বা প্যানা-ব্যানার টাঙিয়ে রাস্তা সংকুচিত না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা রোধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। জাল টাকার বিস্তার রোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঈদের ছুটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজার, মার্কেট, অফিস ও শপিংমলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন কিংবা বাসের ছাদ বা হাতলে ঝুলে যাত্রী বহন করা যাবে না।
দৌলতপুর খেয়াঘাট, জেলখানা ঘাট ও রূপসাঘাটসহ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, বয়া, সচল অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং নৌপথে বাতি ও মার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।
ঈদের প্রধান জামাতে মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে এবং অজুর জন্য পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। জেলার কোথাও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নের সংবাদ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবের কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৭৭১০৬৯৯-এ জানানো যাবে।
এছাড়া যাকাতের একটি অংশ সরকারি যাকাত ফান্ডে প্রদানের জন্য সোনালী ব্যাংক, বয়রা শাখার চলতি হিসাব নম্বর ২৭০৪০০১০৮৬৯-এ অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বয়রা কার্যালয়ে সরাসরি জমা দেওয়া যাবে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

