রবিবার । ১৫ই মার্চ, ২০২৬ । ১লা চৈত্র, ১৪৩২
ঈদের পর ডুমুরিয়া ও রূপসায় অভিযান

অবৈধ ইটভাটা গিলে খাচ্ছে পাউবো’র বাঁধ!

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় গিলে খাচ্ছে পাউবো’র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ! ভাটার কাঁচা মাটি ও ইট বহনের ফলে যেমন নষ্ট হচ্ছে ওয়াপদা বাঁধ, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমির। এ যেন দেখার নেই কেউ। এভাবে চলে আসছে বছরের পর বছর। ভাটা মালিক সম্প্রতি ক্ষমতাহীন হলেও ভাটা টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ভোল পাল্টে ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ঈদের পরই ডুমুরিয়া ও রূপসায় অভিযানে নামবে প্রশাসন।

জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকায় ভদ্রা নদীর তীরে কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবাধে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে খলসী গ্রামের আজিজুর মোড়ল। মেসার্স আল্লারদান ব্রীকস (এডিবি) নামে ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নাম ভাঙিয়ে নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয় এ ইটভাটা। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ভাটা মালিক বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তা চালিয়ে আসছেন। বিগত ১৭ বছরে তিনি প্রভাবশালী হিসেবে এলাকায় নিজেকে বেশ পরিচিতি ঘটান। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সম্প্রতি রাজনৈতিক ভোল পাল্টে অনৈতিক সুবিধা ভেগের পাঁয়তারা করছেন তিনি।

ভাটা সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৭/২ পোল্ডার বেড়ি বাঁধটি কেটে নিজের ভাটার কাজে ব্যবহার করছেন। ভাটার চিমনি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে কৃষি জমির উপর পাড়ান তৈরি করা হয়েছে। ওয়াপদা কেটে ইটের পাড়ানে গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছেন। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাটায় কুলবাড়িয়া এলাকা প্লাবন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানসহ ফসলি জমি। সম্পূর্ণ লোকালয়ে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এ ইটভাটা। এমন ভাটার সংখ্যা ডুমুরিয়া উপজেলায় অনেক রয়েছে। এর অধিকাংশ ইটভাটার কারণে কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কিছু ভাটায় ছাড়পত্র দিলেও অধিকাংশ ভাটাগুলো ঝুলিয়ে রেখেছে।

নাম না জানিয়ে স্থানীয় এক কৃষক জানান, ‘ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে বোরো ধান গাছের পাতা ঝলসে যাচ্ছে। এখানে আগে তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল হতো, এখন তেমন হয়না। ভাটার কারণে ওয়াপদা রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। বর্তমানে রাস্তার বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ধুলাও সব ফসলের উপর গিয়ে পড়ে। সবমিলে কৃষকরাও বিপাকে রয়েছে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না জানান, ‘ভাটা মালিকদেরকে বহুবার বলা হয়েছে ওয়াপদার ক্ষতি না করতে। কিন্তু তারা তোয়াক্কা করছে না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ওয়াপদা কেটে যত্রতত্র স্থানদিয়ে মাটির ট্রাক আসা-যাওয়া করার ফলে যেমন বাঁধটি হুমকিতে পড়েছে, তেমনি সড়কের উপর চলাচলরত ট্রাক থেকে মাটির টুকরো পড়ায় (বৃষ্টির পানি পড়লে) ছোট যান চলাচলের ঝুঁকি রয়েছে। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও কয়েকবার নোটিশ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, ‘ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ফুলতলা উপজেলায় অভিযান হয়েছে। কিছু সমস্যার কারণে নির্বাচনের আগে ডুমুরিয়ার ইটভাটায় অভিযান হয়নি। তবে মন্ত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনা হয়ে গেছে। ঈদের পরই ডুমুরিয়া ও রূপসা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যে সমস্ত ভাটাগুলোতে পরিবেশের ছাড়পত্র নেই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২০টি ইট ভাটার মধ্যে ৭টি ইট ভাটায় পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন