বুধবার । ১১ই মার্চ, ২০২৬ । ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে হঠাৎ বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। থেমে নেই খোলা তেলের দাম। প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৭ টাকা। কোনো কারণ ছাড়া ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের দাবি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে মূল্য বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে মূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা কোম্পানি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না।

গতকাল সোমবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে ১ ও ২ লিটার তেলের বোতল নেই। যাদের আছে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ৫ লিটার তেলের বোতল বেশি দেখা গেছে। ক্রেতা বুঝে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ৫ লিটারের তেলে বোতল কোথাও ৯৬০ টাকা আবার কোথাও ৯৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ছোট বোতলের তেলের কৃত্রিম সংকটে ব্যবসায়ীরা খোলা তেলের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

ধর্ম সভা মন্দিরের পাশে ‘সদায়পাতি’ স্টোরের মালিক জানান, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে দোকানে কোনো তেল নেই। আবার চাইলে পাওয়া যাচ্ছেনা এমন কথা ঠিক নয়। জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ দামে পাওয়া যাচ্ছে ভোজ্য তেল।’

কালীবাড়ি বাজারের ‘বিশ^াস এন্টারপ্রাইজের’ মালিক জয়দেব বলেন, ‘দোকানে মোড়কজাত কোনো তেল নেই । লোকাল বাজারে কিনে তা লোকাল বাজারে বিক্রি করি। দাম বেড়েছে।’ তবে কত বেড়েছে তা তিনি এ প্রতিবেদককে জানাননি।

পুষ্টি তেল কোম্পানির বিক্রেতা রাজ্জাক ব্রাদার্সের কর্মচারী কালী দাস সাহা বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। তার দোকানের চার্ট অনুযায়ী ৮ লিটার তেলের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ লিটার ৯৪০ টাকা ৩ লিটার ৫৭৬ টাকা, ২ লিটার ৩৮৪ টাকা এবং ১ লিটার তেলের দাম ১৯২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’ তবে দাম বাড়েনি বললেও এ প্রতিবেদকের সামনে এক ক্রেতার কাছে ১০ টাকা বেশি দরে ৫ লিটার তেলের এক বোতল বিক্রি করেন তিনি। দাম বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেয়নি।

খুলনায় তেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাহা ট্রেডিং কর্পোরেশনের’ মালিক ও কর্মচারী তেলের মূল্যের কোনো তথ্য দিতে চাননি। তবে এক মণ তেলের দাম ৭ হাজার ৩০০ টাকা বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছেন।

বড় বাজারের মা মনষা ভাণ্ডারের মালিক মিন্ময় বণিক বলেন, ‘ফ্রেশ ৫ লিটারের বোতল কোম্পানি থেকে ৯৩৫ টাকায় কিনে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করছি।’ প্রতি লিটারে ৩ টাকা বেড়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানায়। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও কাঁচামালের সংকটকে দায়ী করেছেন তিনি। তাছাড়া কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দোকানে উপস্থিত থাকলেও সে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই বাজারের ‘শরীফ স্টোরের’ কর্মচারী নুর ইসলাম জানান, ‘খোলা তেল প্রতিকেজিতে ৭ টাকা বেড়ে ২০৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে তিনি ১৯৬ টাকায় বিক্রি করেছেন। দাম বৃদ্ধির আগে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল কিন্তু বর্তমানে তা নেই।’

হঠাৎ ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার কো-অর্ডিনেটর এ্যাড. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা মানব সেবার চেয়ে খারাপ কাজ বেশি করেন। মানুষকে ঠকিয়ে অধিক লাভবান হওয়ার জন্য দাম বৃদ্ধি করেন। অথচ অসাধুব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস এ সরকারের নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. সেলিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও সতর্ক করা হচ্ছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন