ডুমুরিয়ার উত্তর বিলে ৩ বিঘা জমি হারি নিয়ে মাছ ও ধান এবং সবজি চাষ করেন মির্জাপুরের শিমুল ঢালী। গেল দু’বছর অতিবৃষ্টিতে ভেসে গেছে শিমুলসহ ওই বিলের সকল ঘেরের মাছ ও সবজি। বোরো মৌসুমে কমপক্ষে একশ’ লিটার ডিজেল দিয়ে সেচ দিয়ে ঘের শুকিয়ে ধান চাষ করেছেন। শুকিয়ে রাখতে প্রতিদিন ৫ লিটার ডিজেল লাগে শিমুলের। শুধু শিমুল নয় অধিকাংশ বোরো চাষির প্রতিদিনের সঙ্গি ডিজেল।
ইতোপূর্বে অধিকাংশ মুদি দোকানি বা খুচরা বিক্রেতা পাম্পের চেয়ে ১/২ টাকা বেশি দামে হরহামেশা ডিজেল বিক্রি করে আসছে। সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে গেল ২/৩ দিন ধরে গ্রামাঞ্চলে ডিজেল যেন সোনার হরিণ। গত বৃহস্পতিবার থেকে খুলনার অধিকাংশ পাম্পে নেই পেট্রোল ও অকটেন। তবে ডিজেলের কোনো সংকট দেখা যাইনি। অথচ এসব খুচরা বিক্রেতারা সংকট দেখিয়ে লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে ডিজেল বিক্রি করছে।
সরেজমিন কাপালিডাঙ্গার লাদেন স্টোর, লতিফ সানার দোকান, হানিফ মোল্লা, উলা গ্রামের আকবর, গফ্ফারের দোকানে এবং বানিয়াখালী বাজারের মানিকের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
বোরো চাষি নাসির উদ্দীন গাজী অভিযোগ করেন, ‘এসব দোকানিরা কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করছে।’ কৃষকরা বেশি দামে ডিজেল কেনায় এবার বোরা ধানে কৃষক বড় ধরনের লোকসানে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। সাজিয়াড়া গ্রামের মধ্যে আমিন স্টোর। বাগানের মধ্যে ওই দোকান। কোনো পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই অথচ সেখানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের জ্বালানি তেল। তবে দাম চড়া। প্রদীপ বিশ্বাস নামে এক কৃষক তার কাছ থেকে ৫ লিটার ডিজেল নিয়েছেন গত শনিবার রাতে। তাকে গুনতে হয়েছে ৬২৫ টাকা।
দাম বেশি নেওয়ার ব্যাপারে দোকানদার আমিন উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশি দামে বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া বাজারের এ লতিফ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইলিয়াছ শেখ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পেট্রোল ও অনটনের বরাদ্দ না থাকায় শুক্র ও শনিবার কাউকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
গল্লামারী মেট্রো ফিলিং স্টেশনের মালিক এ্যাড. মাসুদুর রহমান রনি বলেন, ‘ডিজেলের কোনো সংকট নেই। বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগও নেই।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজেলের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কোনো কৃষকের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬৬ হাজার হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর।
জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার বলেন, ‘রবিবার বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সঠিক রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
পর্যাপ্ত মজুত আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পাম্পগুলোতে দাম বেশি নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গ্রাম পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাদের সঠিক নিয়মে বিক্রিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশনের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে খুলনার দৌলতপুরসস্থ পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর ম্যানেজার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘খুলনায় ডিজেল মজুত রয়েছে ৩৮ লাখ লিটার, পেট্রোল মজুত রয়েছে সাড়ে ৯ লাখ লিটার এবং অকটেন মজুত রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ লিটার। সরকার নির্ধারিত রেশনিং পদ্ধতিতে রবিবার খুলনা থেকে ১৩ জেলার পাম্প গুলোতে ডিজেল সরবরাহ হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার লিটার, পেট্রোল সরবরাহ হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার লিটার এবং অকটেন সরবরাহ হয়েছে ৪২ হাজার লিটার।
উল্লেখ্য, সরকার নির্ধারিত ডিজেল প্রতি লিটার ১’শ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

