সোমবার । ৯ই মার্চ, ২০২৬ । ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

শজিনা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা জেলায় এবার চলতি মৌসুমে শজিনা চাষে দেখা গেছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। মাঠে মাঠে বাড়ির আঙিনা ও বাগানে এখন চোখে পড়ে সাদা ফুলে ভরা শজিনা গাছ। চারিদিকে যেন ফুলের সমারোহ। গাছের প্রতিটি ডালপালায় সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে। এমন দৃশ্য কৃষকের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর শজিনা গাছে ব্যাপক ফুল এসেছে। ফুলের আধিক্য ইঙ্গিত দিচ্ছে ভালো ফলনের। কৃষকদের প্রত্যাশা, এবার ফলন যেমন বেশি হবে, তেমনি বাজার দরও থাকবে সন্তোষজনক। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেই প্রতি কেজি শজিনা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মৌসুমীর শেষদিকে সরবরাহ বেড়ে গেলেও দাম কিছুটা কমে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেমে আসে। তবে উৎপাদন ভালো হলে বিক্রির পরিমাণ বাড়ে, ফলে কৃষকের লাভও বেশি হয়।

কৃষিবিদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শজিনা এখন শুধু সবজি নয়, পুষ্টিগুণের কারণে এটি সুপার ফুড হিসেবেও পরিচিত। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সজিনার চাহিদা বাড়ছে। ফলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শজিনা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগাম ফুলোকোসি ডাটা দেখে পাইকাররাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অনেকে কৃষকদের কাছ থেকে শজিনা গাছ অগ্রিম কিনে নিচ্ছেন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “সজিনাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ বলা হয়। শজিনা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য, ভারি ধাতু অপসারণ করে। শজিনা প্রায় ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। সজিনার বাকল, শিকড়, ফল, পাতা, বীজ এমনকি ফুলেও ওষুধি গুণ রয়েছে। শজিনা খুলনাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় সবজি। অনাবাদি পতিত জমি ও রাস্তার পাশে বারমাসী শজিনা চাষে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে শজিনা গাছ চাষ করা হয়েছে। গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটা বাড়িতে শজিনা গাছ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে শজিনা চাষে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হতে পারে। সব মিলিয়ে সাদা ফুলে ভরা শজিনা গাছ যেন খুলনা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামবাংলায় এনে দিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা। ভালো ফলন, ভালো দাম আর কৃষকের মুখে প্রশস্ত।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন