দেখতে দেখতে পার হলো ১৭ রমজান। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে খুলনার পোশাক বাজার। প্রতিটি মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের আনাগোনা। আয়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি থাকায় অনেকেই ছুটছেন ফুটপাথের দোকানগুলোতে। থেমে নেই অভিজাত শপিং মার্কেটের দোকানগুলো। বিক্রি বেড়েছে ১৪ রমজান থেকে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পাওয়ার পর ঈদ মার্কেট জমে উঠেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শনিবার নগরীর ব্যস্ততম সড়কের মোড়ের ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে ভিড় দেখা যায়। তবে এ সময় যে জিনিসটি বেশি লক্ষণীয় তা হলো পুরুষদের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় অনেক বেশি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।
নগরীর প্রাণ কেন্দ্র আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহিদ সোহরাওয়ার্দী বিপণি বিতান, রেলওয়ে বিপণি বিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলোলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে অভিজাত মার্কেটের তুলনায় মধ্যম সারির মার্কেট ও ফুটপাতে পণ্যের দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি ভালোই হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।
ডাকবাংলো মোড় হাজী মালেক চেম্বারের সামনে ফুটপাথের দোকানি সজীব বলেন, প্রথম থেকে দশ রমজান পর্যন্ত তেমন কোনো বিকিকিনি ছিল না। চাকরিজীবীদের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়ার পর সবেমাত্র বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতিক ডাকবাংলো মোড়ে একটি খুনের ঘটনায় আবারও পতন শুরু হয়। তবে যা হচ্ছে তা মোটামুটি ভালো। তিনি ছেলেদের গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রি করছেন। প্রতিপিস গেঞ্জি দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত দর হাঁকাচ্ছেন।
মালেক চেম্বারের সামনে কিছুদূর হেঁটে দেখা মেলে ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা হাসিবের সাথে। বাচ্চাদের কাপড় রয়েছে তার দোকানে। তিনি বলেন, বেচাকেনা কম ছিল। কিন্তু ১৫ রমজানের পর থেকে বিক্রি বেড়েছে।
রেলওয়ে বিপণি বিতানের (নিক্সন মার্কেট) ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ছেলেদের পোশাক বেশি তার দোকানে। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যের প্যান্ট রয়েছে তার দোকানে। দু’দিন ধরে বেড়েছে বিক্রি। সামনে আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
খুলনা শপিং সেন্টার অভিজাত মার্কেট বলে পরিচিত। দুপুর দেড়টার দিকে ওই শপিং মলের ঐশিকা ফ্যাশনের মালিক উৎপল দত্ত বলেন, সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গান জা, জিমুচি ও ফারসি গাউন নামের পোশাকের চাহিদা এবারের ঈদে ব্যাপক। তরুণী ও উঠতি বয়সের নারীদের এই পোশাকের চাহিদা বেশী।
তিনি বলেন, সুতি থ্রি-পিস ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা, জর্জেট, পাকিস্তানি ফারসি গাউন থ্রি-পিস ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা, অর্গান জা ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা, জিমুচি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ভারতীয় ফারসি গাউন ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই মার্কেটে মারিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল হোসেন জানান, এবারের ঈদের নতুন কালেকশন হলো ফারসি গাউন। পাকিস্তান, ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশে তৈরি হয় এ ফারসি গাউন। ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হয়েছে এ পোশাকটির দাম।
তিনি বলেন, আগে প্রথম থেকে ৮ রমজানের মধ্যে বেচাকেনা বাম্পার শুরু হতো। কিন্তু এবার ১৫ রমজানের পর থেকে বেড়েছে। সামনে আরও বিক্রি বাড়বে।
খালিশপুুরের বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে মার্কেটে ঘুরছি কাপড় কেনার জন্য। কিন্তু দাম এবার অনেক বেশি বলে তিনি দাবি করেন। আরও ঘুরে তিনি বাচ্চাদের পোষাক কিনবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান তিনি। তবে অন্য চিত্র দেখা যায় পিকচার প্যালেস সুপার মার্কেটে। অস্থায়ী ওই মার্কেটের কয়েকটি থ্রি-পিসের প্রতিটি পোশাকের ওপর ছাড় দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ইসলামপুর থেকে পোশাক কেনেন তারা।
তাহান ফেব্রিকসের মালিক মো: দিদারুল আলম বলেন, সারা বছরেই আমরা ব্যাবসা করি। রমজান মাসে তিনি ব্যাবসা করবেন না। বিভিন্ন আইটেমের ওয়ান পিস, টু পিস ও থ্রি-পিসের মূল মূল্য থেকে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন তিনি।
এদিকে নারীরা ছুটে চলেছেন শাড়ির দোকানে। জলিল টাওয়ারের চন্দনা শাড়ি হাউসের মালিক উজ¦ল কুন্ডু বলেন, বি-প্লাস ছাপা ১ হাজার ৪০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা, টাঙ্গাইল ৮০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মার্কেটে ফোর্স ও মোবাইল টিমের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শহরের নিরাপত্তার জন্য চেকপোস্টের সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

