সোমবার । ৯ই মার্চ, ২০২৬ । ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা অশোক কুমার দেবনাথ (যুদ্ধাহত)। ১৯৬৮ সালে খুলনা মডেল স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে বাগেরহাট পিসি কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিন পর বাগেরহাট মহাকুমা ছাত্রলীগ নেতা তালার আব্দুস সালাম মোড়ল এর হাত ধরে ছাত্রলীগের সদস্য এবং কলেজ শাখার সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করে ঐ কলেজেই বি.কম ভর্তি হন এবং মহাকুমা ছাত্রলীগ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে রামপাল-মোংলা নির্বাচনি এলাকায় গাজী আব্দুল জলিল ও শেখ আব্দুল জলিলের সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকায় উত্তোলিত পতাকার অনুরূপ একটি পতাকা শফি মিয়া (বই ব্যবসায়ী) তাদের দিলে ৩ মার্চ আমিরুজ্জামান বাচ্চু, আব্দুল মান্নান পাঠানসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় বাগেরহাট এসডিও ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তখন আমিনুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ পতাকাকে স্যালুট দেয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের অত্যাচার শুরু হলে তার পিতা ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে যেতে অনুমতি দিলেন।

১৮ মে ভারতের বশিরহাট পৌঁছে শেখ কামরুজ্জামান টুকুর মাধ্যমে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে পাঙ্গা ক্যাম্প হয়ে আসামের হাফলং সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ব্যারাকপুর সেনানিবাস থেকে অস্ত্র গোলাবারুদ ও সহযোদ্ধাদের নিয়ে দেশে প্রবেশ করে তালার ভাতুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। ১৮ অক্টোবর শেখ কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে পাইকগাছা গার্লস হাইস্কুলে রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণে আরসিএল গান অপারেটর হয়ে অংশ নেয় ঐ যুদ্ধে প্রথম ব্যাক ফায়ারে মুড়গাছার মোতালেব মাথার চুল থেকে পেট পর্যন্ত পুড়ে হলুদ হয়ে যায়। তখন তিনি একা আরসিএল চালাতে গিয়ে বাম হাতের মধ্য আঙ্গুল পুড়ে যায়। ডাঃ আবু সাঈদ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরের দিন সাতক্ষীরার মোস্তাফিজ ও কামরুল ইসলাম খান তাকে ও মোতালেবকে ভারতে নিয়ে যান। দিলীপ ব্যানার্জী ও শেখ সালাম তাদের ব্যারাকপুর সেনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন