শনিবার । ৭ই মার্চ, ২০২৬ । ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২

খুলনা গেজেটের পাতায় মরহুম বজলুর রহমানের শেষ স্মৃতিচারণ

কাজী মোতাহার রহমান

একুশ দিন আগের কথা। জাতীয় নির্বাচনের পরদিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি। খুলনা গেজেটের পাতায় ছাপা হয় গর্বিত ভাষা সংগ্রামী, খ্যাতিমান আইনজীবী মরহুম মোল্লা বজলুর রহমানের শেষ স্মৃতিচারণ। স্মৃতির একুশের কলামে শিরোনাম ছিল, ‘জীবন সায়ান্নে ভাষা সৈনিক বজলুর রহমান’। সিমেট্রি রোডের বাসায় শয্যাশায়ী। দু’বছর হল আদালত পাড়ায় তার যাতায়াত ছিল না। দাম্পত্য সঙ্গীকে হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। বিছানায় শুয়ে থাকতেন সার্বক্ষণিক। কণ্ঠস্বরটা ছিল স্বাভাবিক। তার জীবদ্দশায় বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে এক ঝুলি তথ্য দেন।

বড় দাবি ছিল সংবাদপত্রের পাতায় তার স্মৃতিচারণটা যেন দেখে যেতে পারেন। স্মৃতিচারণটি ছাপা হয়েছিল সেদিন। স্বজনরা কেউ দৈনিকটি তার হাতে তুলে দেননি। যখন তার কানে এ শব্দটি পৌঁছেছে তখন সংবাদপত্রটি ধরার মতো শক্তি, সাহস ও মনোবল ছিল না।

স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে বুকভরা গর্ব নিয়ে বলেন, ‘মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালে দৌলতপুর মহসীন হাইস্কুল থেকে বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মিছিলে অংশ নেন। নবম শ্রেণির এ শিক্ষার্থীর কণ্ঠে স্লোগান ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, নুরুল আমিনের পদত্যাগ চাই, ছাত্র হত্যার বিচার চাই, রাজবন্দীদের মুক্তি চাই।’

ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, ‘দৌলতপুরের কাশিপুরেই তার জন্ম। মোল্লা হাতেম আলী তার পিতা আর মেহেরুন্নেছা খাতুন তার মা। ১৯৩৭ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে দৌলতপুর মহসীন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্টিক, ১৯৫৫ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএ ও ১৯৫৭ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৬২ সালে একই বিশ^বিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি লাভ করেন।

স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে বলেন, ‘মহসীন স্কুলের মৌলভী শিক্ষক তাদেরকে অবহিত করেন একুশ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে।’ কয়েকজন ছাত্র নিহত হয়েছে বলে তিনি ছাত্রদের জানান। এ সংবাদ পাওয়ার পর নবম-দশম শ্রেণির ছাত্ররা মিছিল নিয়ে বিএল কলেজে আসে। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের মনোনয়নে বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৭-১৯৭৬ পর্যন্ত ন্যাপ (ভাষানী) এর খুলনা শহর শাখার সদস্য ছিলেন।

তার দেয়া তথ্যমতে, ২০০০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। নগর বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে ১১ মার্চ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি, ১৯৮১ সালে ও ১৯৯৫ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে উমরাহ পালন করেন। ইসলামিক ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের খুলনা শাখার ২০০৩-২০১৩ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দুই সন্তানের জনক। তারা হলেন, রেজাউর রহমান ও মাহমুদা রহমান রূপা। ভাষা আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য জেলা প্রশাসন তাকে ক্রেস্ট উপহার দেন। তিনি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন