টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল ও লুট-কোথায় ছিল না তার নাম। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে লুটপাট আর অপকর্মে মিশে ছিলেন যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘কালা শওকত’ নামে পরিচিত।
অবশেষে আত্মগোপনে থাকার দেড় বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন সেই শওকত। গত ৫ মার্চ রাত দুইটার দিকে তাকে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারী কলোনীর মোড়ের বাসিন্দা মৃত আবদুল আলিমের ছেলে শওকত হোসেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান শওকতের ভাগ্য খুলে যায় শেখ সোহেলের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়ে। এরপর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে মেতে ওঠেন। খুলনার সবকটি বাণিজ্য মেলা, বড় মার্কেট, বাস টার্মিনালে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন শওকত। শেখ সোহেলের সঙ্গে থাকার কারণে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারাই তাকে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের এক ঠিকাদার বলেন, ‘পূর্ত বিভাগের কাজ শেখ সোহেল ভাগ করে দিতেন। ২০১২ সালে উনি বিদেশে থাকায় কে কাজ নেবে-এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই টেন্ডার জমা দেই। বিকালে শওকত আমার বাড়ি আসে। স্ত্রী-সন্তানের সামনে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। পরে গণপূর্ত অফিসের ভেতরে নিয়ে টেন্ডার প্রত্যাহারের কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেয়।’
আরেক ঠিকাদার বলেন, ‘ম্যানুয়াল টেন্ডারের সময় ওর পাহারা থাকতো। খুলনার গণপূর্ত-২ তে ওদের পছন্দের বাইরে টেন্ডার জমা দেওয়ায় শওকত টেন্ডার বাক্স ভেঙে সিডিউল ও কাগজ কেড়ে নিয়েছিল। নির্যাতনের ভয়ে পরের বছরগুলোতে ওদের কথাতেই সবাই টেন্ডারে অংশ নিতো।’
২০১৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি সামজিন লিমিটেডের মাধ্যমে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের অপেক্ষায় থাকা ৩৩ হাজার মেট্রিক টন খালাসের কাজ পান শওকতের মামা জি কে শিপিং। প্রায় ৯০ কোটি টাকা মূল্যের ওই গম কালো বাজারে বিক্রি করে দেন শওকতসহ অন্যরা। ২০১৭ সালে এ ঘটনায় শওকত হোসেন, জি কে শিপিংয়ের মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিল দুদক। ওই সময় সব জাতীয় দৈনিকে এনিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও নির্যাতিত হয়েছেন তার হাতে। ২০১৮ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি ও কেসিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আজমল আহমেদ তপনের বাড়ি ভাংচুর করে শওকতের অনুসারীরা। চাঁদাবাজি, দখল করতে গিয়ে মারধর করেছিলেন আওয়ামী লীগের অসংখ্য কর্মী।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, খুলনার শেখ বাড়ির খুব আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিল শওকত হোসেনের। আওয়ামী সরকার পতনের পর শওকত পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যু সহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে আমরা খুঁজছিলাম। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পল্টন এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে ওই ৫টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

