একসঙ্গে দুই ভোট। গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। খুলনা-৩ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারীদের দীর্ঘ সারি কেন্দ্রগুলোর সামনে চোখে পড়েছে। সংসারের কাজ সামলে, কেউবা শিশুসন্তানকে সাথে নিয়ে ভোট দিতে এসেছে অনেক নারী।
গোবরচাকা ন্যাশনাল গার্লস স্কুল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে এগারোটার পর থেকেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা কলেজ ছাত্রী তমা বলেন, একসঙ্গে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন হওয়ায় দিনটি বিশেষ মনে হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। ভোটকেন্দ্রে পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ।
গৃহিণী তন্নি সুলতানা (২৭) বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসেছি ভোট দেওয়ার জন্য। সকালে ভাবির (জা) সাথে রান্না শেষ করে দুই জা আর একমাত্র ননদকে সাথে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। নারী হিসেবে ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব মনে করি। দেশের সিদ্ধান্তে আমাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।
একই কেন্দ্রে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোট দিতে আসা আরেক মা বলেন, আমি আমার সন্তানের কথা ভেবেই ভোট দিতে এসেছেন।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নার্গিস সুলতানা নামে নারী পোলিং কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি। গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসাথে হওয়ায় ভোটারদের কিছুটা সময় বেশি লাগছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি জানান, নারী ভোটারদের জন্য আলাদা লাইন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মামুনুল আবেদীন বলেন, সকালের তুলনায় দুপুরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের চেষ্টা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে মোট নারী ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৮ এবং হিজরা আছে একজন।

কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক নারী পুলিশ সদস্য বলেন, নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বিশেষ নজর রাখছি। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নগরীর বাঙালি শিশু একাডেমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৬ জন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চারটি বুথে মোট ৮৩৫টি ভোট পড়েছে। এখানে নারীদের উপস্থিতি খুবই ভালো। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। আশা করছি, কোনো বিশৃঙ্খলা না হলে এই কেন্দ্রে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি হবে।
স্থানীয় কয়েক জনের মতে, একসাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট আয়োজনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রমাণ। নারীদের এই অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
দ্বৈত ভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খুলনা-২ আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকলে দিন শেষে অংশগ্রহণের হার আরও বাড়তে পারে বলে কমকর্তারা আশা করছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

