ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রামপদ মন্ডল। তিনি বলেন, গণভোটে কী রয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার মতে শিক্ষা সচেতন মানুষরাই জানে না গণভোটে কী রয়েছে। গ্রামের সাধারণ ভোটাররা জানবে কী করে।
আরাজি ডুমুরিয়ার ভ্যান চালক লিটন জানান, গণভোট নিয়ে কোন প্রার্থী বা সমর্থক এমনকি সরকারি কোন কর্মকর্তা কিছুই বলেনি।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের মাতব্বরদের কাছে শুনে গণভোটে কী আছে তারপর সিদ্ধান্ত নিবো।
বটিয়াঘাটা উপজেলার সুকদাড়া গ্রামের ট্রলার চালক আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চাইলেও গণভোট সম্পর্কে কোন কিছু বলছেন না। তিনি গণভোটের সুবিধা-অসুবিধা কী এখনও জানেন না বলে জানান।
খোদ খুলনার অধিকাংশ সরকারি অফিসের কর্মকর্তারাই জানেন না গণভোটে কি কি উল্লেখ রয়েছে। গণভোট সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দেওয়া লিফলেট সম্পর্কেও অন্ধকারে অধিকাংশ কর্মকর্তা। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে গণভোটে সুনির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো তুলে ধরার দাবি এসব কর্মকর্তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গণভোটের প্রচারণায় কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছে সরকার। ইতোমধ্যে সকল দপ্তরের সামনে বড় বড় প্যানা টানানো হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের সরকারি অফিস থেকে গণভোটের প্রচারণা করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মকর্তাদের দাবি লোক দেখানো প্রচার প্রচারণা চলছে। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব এখনও তেমন পড়েনি। কিন্তু অধিকাংশ ভোটার গণভোট সম্পর্কে তেমন কিছু এখনও জানেন না।
তবে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, গণভোট সম্পর্কে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এখনও নানা প্রকার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সরকারিভাবে আরও অনেক প্রকার প্রচারণা চালানো হবে। গণমাধ্যম কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
আরও গতিশীল প্রচারণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমশিন ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তারা বদ্ধ পরিকর।
খুলনা গেজেট/এনএম



