পুরো শহরের প্রতিচ্ছবি নয়। সারি সারি অট্রালিকাও থাকবে না। ফোয়ারা বা ভাস্কর্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে না। তবুও শহর সভ্যতার ছোঁয়া থাকবে। জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা মুক্ত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, জীবনব্যাপী শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এ আলোকে সাজানো হবে ডুমুরিয়া উপজেলার উলা, তেলিখালী ও রামকৃষ্ণপুর গ্রাম। জীবন-যাত্রার মান উন্নয়নে এ ধরনের সুযোগগুলো পাবে এসব গ্রামের ৯ হাজার নারী-পুরুষ।
উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে উলা, ১১ কিলোমিটারের ব্যবধান তেলিগাতী এবং ৬ কিলোমিটার দূরে রামকৃষ্ণপুর গ্রামের অবস্থান। উপর্যুক্ত দুটি গ্রাম ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নে এবং শেষেরটি রংপুর ইউনিয়নের মানচিত্র বেষ্টিত।
উপজেলা সহকারী পরিসংখ্যান অফিসার তারেক রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উলায় ৩ হাজার ১৮৬ জন, তেলিগাতীতে ১ হাজার ১৯৫ জন এবং রামকৃষ্ণকে ৪ হাজার ৬৪৩ জনের বসবাস। এসব গ্রামগুলোতে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভীত প্রতিষ্ঠা করতে স্বল্প মেয়াদের এ প্রকল্পের নাম ‘টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এসডিজি গ্রাম নির্বাচন’।
দেশের আরও ৪ উপজেলার তিনটি করে গ্রামে অনুরূপ কর্মসূচি। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন গত মাসে প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এলডিজি ভিলেজ নির্বাচন বিষয়ক গত মাসে খুলনা জেলা প্রশাসনের এক সভায় এ প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়।
সভায় উল্লেখ করা হয়, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে হবে। ন্যায় বিচার ও জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ থাকবে গ্রামগুলোতে। এতে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির চাকা বদলে যাবে।
প্রকল্প এলাকার ভান্ডারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মহিউদ্দিন আহমাদ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বলেন, “ভদ্রা, শলতা ও শোলমারি নদী খনন হলে গ্রামগুলো জলাবদ্ধমুক্ত হবে। উলা গ্রামে মৌসূমী সবজির উৎপাদন বাড়বে। তেলিখালীতে ধান উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়মিত হবে।”
প্রকল্পভূক্ত রংপুর ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ মন্ডল বলেন, “জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা নামক অভিশাপ দূর হলে বোরো উৎপাদন বাড়বে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ বাড়বে।
উল্লেখ্য, আগামী সরকারের আমলের প্রথমদিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

