সকাল কিংবা সন্ধ্যা। শহরের অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে একই চিত্র। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচনী আলোচনা। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে চলছে মিছিল-মিটিং।
শহরের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন এক একটি ভোট ক্যাম্প। নেই কোনো প্রার্থীর উপস্থিতি। নেই মাইকিং বা প্রচারণা। সারাদিন চলে কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কোন প্রার্থী কেমন, কার জনপ্রিয়তা বেশি এসব আলোচনা। এমনকি অতীতে কার ভূমিকা কেমন ছিল। তবে এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট।
গত বুধবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে নগরবাসীর মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে ৩টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনগুলোতে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দেশের সর্ববৃহৎ দল বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তারা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দেশ পরিচালনা করতে থাকে। আওয়ামাী শাসন আমলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন থেকে সকল প্রকার নির্বাচনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সিইসি ঘোষিত তফসিল মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে কোন প্রকার বাধাহীনভাবে সর্বস্তরের ভোটার ভোট দিতে পারবেন এমন ভাবনা থেকে সাধারণ মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত।
খুলনা মহানগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়াখামার ওয়েজ স্টোরে দেখা মেলে কয়েকজন বৃদ্ধের। সেখানে তারা নির্বাচনী খোঁস গল্পে লিপ্ত। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কেউ বলছেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিকল্প নেই। আবার কেউ দেশে একটা বড় পরিবর্তন দেখতে চান। এমন আলোচনা চলছে নগরীর বিভিন্ন চায়ের দোকানে।
এদিকে সন্ধ্যায় নগরীতে দেখা মেলে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র মিছিল। ওই মিছিলে অংশ নেয় এলাকার ছোট বড় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। তাদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনা দেখা যায়।
খুলনা গেজেট/এনএম

