শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২
নানী ও দুই নাতীসহ একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা

জমির দলিল নিতেই তিনজনকে খুন, মেডিকেল রিপোর্টে আটকে আছে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

জমির মূল দলিল নিতেই লবণচরা থানাধীন টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির চাঞ্চল্যকর তিন খুন সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেড় মাসের অধিক সময়েও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলেই এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, “মামলা দায়েরের পর থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদসহ এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর সর্বপ্রথম ২০ নভেম্বর রাতে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার আরজুর কালভার্টের সামনে থেকে তরিকুল ইসলাম তারেককে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ট্রিপল মার্ডারের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের বিবরণ জানিয়ে শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।” এরপর তফসির, সালমান ও সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, “ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদ নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহমেদের আপন ফুফাতো ভাই। রূপসা উপজেলার একটি জমি নিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে এ বিরোধ। বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়াই। ওই জমির মূল কাগজ লুট করার জন্য সন্ত্রাসীদের সাথে একলাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। সেই কাগজ নিতে এসে সন্ত্রাসীরা শেফার আহমেদের দুই শিশু সন্তান ও তার শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও বাকী দুইজনকে এখনও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি ঘটনার দিন বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করতে পারেনি।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লবণচরা থানার ওসি তদন্ত মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, “মূল পরিকল্পনাকারী শামীম রূপসা থানার অস্ত্র মামলায় কারাগারে ছিল। সেখানে থেকে সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করে। শেফার আহমেদের সাথে রূপসা উপজেলার একটি জমি নিয়ে শামীমের সাথে দ্বন্ধ ছিল। শামীম জাল দলিল করে শেফার আহমেদের জমি নিজের করে নেয়। এ ঘটনায় খুলনার সিভিল আদালতে মামলা চলছে। আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় জমির মূল দালিল দেখাতে হবে। আর সেটি নেওয়ার জন্য কারাগারে বসে দলিল লুট করার ছক কষতে থাকে সে। দলিলটি নেওয়ার জন্য সন্ত্রাসীদের সাথে একলাখ টাকায় রফাদফা হয়। সে চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন দুর্বৃত্তরা ওয়াল টপকিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে নানী মহিতুন্নেছাকে হত্যা করে। পরে শিশু সন্তান মুস্তাকিম ও ফাতিহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।”

তিনি আরও জানান, “বাড়ির আশপাশ এবং বিভিন্নস্থানে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রথমে আমরা তারেককে গ্রেপ্তার করি। এর পরপর শামীম ও বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। শামীম ও সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বাকী দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া যাবে।”

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, “ঘটনার দিন বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তাছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত হাতে পায়নি। হাতে পেলে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।”

উল্লেখ্য, জমি-জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৬ নভেম্বর’২৫ দুপুরে বাব-মায়ের অনুপস্থিতিতে নগরীর লবণচরা থানাধীন টুটপাড়া দরবেশ মোল্লার গলিতে দুই শিশু মুসতাকিম (৮) ও ফাতিহা (৭) এবং তাদের নানী মুহিদুন্নেছাকে খুন করে দুর্বৃত্তরা। দুপুরে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হলে রাতে ঘটনাটি জানা জানি হয়। পরে ঘরের ভেতরে মুরগির ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন দুই শিশুর পিতা বাদী হয়ে লবণচরা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

খুলনা গেজেট/এইচ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন