শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

সুস্থতার পর সিদ্ধান্ত বাঘটির ঠিকানা কোথায় হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্মের পর থেকে পূর্ণ বয়স্ক আহত বাঘটি নগর সভ্যতার পরশ পায়নি। বৈদ্যুতিক আলো দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে ফাঁদে আটকা পড়ে অসুস্থ হওয়ার পর হাজারও মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে তার ছবি। ঝড়, বৃষ্টি, জলচ্ছাস, শৈত্য প্রবাহ ও দাবদাহে কেটেছে জীবনটি বেড়াবিহীন মুক্তবনে। ১১দিন ধরে ঠাঁই হয়েছে ইট বালি সিমেন্টের পাকা ভবনে। এন্টিবায়োটিক, ওরস্যালাইন ও গোমাংসের স্বাদ পাচ্ছে এই প্রথমবারের মতো। চলন ও ক্ষিপ্রতায় আশার আলো দেখেছে বিশেষজ্ঞরা। সুস্থতার পর সিদ্ধান্ত হবে এ প্রাণীর পূর্বের ঠিকানা সুন্দরবনে প্রত্যাবর্তন নাকি পাঠানো হবে সাফারী পার্কে।

দুর্বল ও আহত এ প্রাণীটির চিকিৎসা হচ্ছে স্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আটকা পড়ার পর অভুক্ত থাকায় দুর্বল হয়ে পড়ে। পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসার পর তার জ্ঞান ফেরে। প্রথম দিকে ওরস্যালাইন, মুরগি ও গরুর কলিজা খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। একদিন পর খেতে শুরু করে। খাদ্য গ্রহণের পর ক্ষিপ্রতা আসতে শুরু করেছে।

বনের চাঁদপাই রেঞ্জের শোরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারির ফাঁদে বাঘটি আটকা পড়ে। ৩ জানুয়ারি জেলে-বাওয়ালীরা বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষণ ইমরান আহমেদ বলেন, “আঘাতে বাঘটির হাড় ভাঙেনি। বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

আহত বাঘটি সুস্থ করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরেনারি অনুষদের ড. মোঃ গোলাম হায়দার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধানের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মোঃ গোলাম আযম চৌধুরী ও সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতালের এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা. নাজমুল হুদা খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেছেন, “আলোচিত এ প্রাণীটি ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইনের নিবিড় তত্ত্বাবধায়নে এ প্রাণীর চিকিৎসা চলছে”।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণে আসা তিন সদস্য বাঘটির সুস্থতার বিষয়ে আশাবাদী। দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ব্লো পাইপের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং খাবার হিসেবে প্রতিদিন ৫ কেজি করে গো মাংস খাওয়ানো হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, “সুস্থ হলে সিদ্ধান্ত হবে তার পূর্বের ঠিকানায় প্রত্যাবর্তন না সাফারী পার্কে পাঠানো হবে। শিকার ধরার উপযোগী না হলে বনে পাঠানো যাবে না।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন