বটিয়াঘাটা উপজেলায় রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা গ্রামের চরডাংগা স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি রাস্তা সংস্কারে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চরডাংগা স্লুইস গেট ও ওয়াপদার রাস্তার কাছাকাছি এভাবে মাটি কাটায় এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মাটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন তহসিলদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা ওয়ার্ডের চরডাংগা স্লুইস গেট সংলগ্ন ৩০ নং পোল্ডারের পাউবো’র জায়গা থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে সওজ বিভাগের এক ঠিকাদার। স্থানীয়রা বাধা দিলেও কাজ হয়নি। কয়েকটি ট্রাক ভর্তি করে মাটি নেওয়ায় জায়গাটি এখন বড় ধরনের গর্তে পরিণত হয়েছে।
চরডাংগা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, হঠাৎ করেই মাটি কাটা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। এখানে মাটি কাটলে ওয়াপদার রাস্তা ও স্লুইস গেট মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এলাকার জাকারিয়া হোসেন বলেন, ওয়াপদার রাস্তার ১২ থেকে ১৪ ফুট দূরে এভাবে মাটি কাটলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বললেও তারা তার তোয়াক্কা করেনি।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এস. এম ফরিদ রানা জানান, সরজমিনে গিয়ে দেখেছি, স্লুইস গেটের একেবারে পাশে মাটি কাটা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শোয়েব শাত-ঈল ইভানকে অবগত করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য তহসিলদারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, অন্য জায়গায় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে নীরব আছি।
বটিয়াঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই ওই স্থান থেকে মাটি কাটার সুযোগ নেই। ওরা সরকারি কাজ হিসাবে মাটি কাটা শুরু করেছিল, পরে নিষেধ করায় বন্ধ রেখেছে মর্মে জেনেছি। এরপর যদি মাটি কাটে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম
