বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

শীতে জবুথবু খুলনা নগরবাসী

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

দিনভর হিমেল হাওয়ার সাথে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো খুলনা নগরীসহ আশেপাশের এলাকা। কোথাও দেখা মেলেনি সূর্যের, রাস্তাঘাট ছিলো যেন আধো আধারে ঢাকা জনমানবহীন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসেনি মানুষ। গতকাল সোমবার কনকনে শীতে বিপর্যস্ত ছিলো জনজীবন।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড শীতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী ঘরের বাইরে আসেনি। রাস্তাঘাট অনেকটা জনমানবহীন থাকায় ছোট যানবাহনের সংখ্যা ছিলো অনেক কম। সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি কোথাও। তীব্র শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। ভোগান্তিতে পড়ে খেটে খাওয়া দিন মজুর, ভ্যান, অটো, সিএনজি, রিকশা চালকেরা। রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম থাকায় ছোট যানবাহনের চালকরা অলস সময় পার করে। ফলে দিনশেষে একপ্রকার খালি হাতেই ঘরে ফিরতে হয় তাদের। শীতের কারণে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বা রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণে জড়ো হয় নিম্ন আয়ের মানুষ।

তবে ভিন্ন রূপ দেখা গেছে নগরীর বড় বাজার শীতের পোশাক ও কাপড়ের দোকানে। প্রচণ্ড শীতে কারণে জমে উঠেছে খুলনা নগরীর বড় বাজার, ডাকবাংলা মোড়, ফেরিঘাট, শপিং কমপ্লেক্স, জব্বার মার্কেট ও রাস্তা পাশের হকারদের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পাড়া ভিড়। ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক কিনছেন।

খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দোলা পরিবহনের কাউন্টার প্রতিনিধি সাবিত বলেন, শীতের কারণে যাত্রী কিছুটা কম। আমাদের সকাল পাঁচটা থেকে শিডিউল। কুয়াশার কারণে পাঁচটার শিডিউল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি গুলো যথা সময়ে সাড়ে পাঁচটা থেকে চলমান।

সাতক্ষীরা রোডের বাস চালক দাউদ হোসেন বলেন, “শীতের কারণে যাত্রী অনেক কম। জরুরি কাজ ছাড়া কেই এই ঠান্ডাতে বাহিরে বের হচ্ছে না।”

ভ্যান চালক সাইফুল বলেন, “সারা দিন তেমন কোনো যাত্রী ও মালামাল পাইনি। রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় হয়নি।”

ঢাকার এক যাত্রী ওবাইদুর রহমান বলেন, “গত কয় এক বছরের চেয়ে এবার শীত বেশী পড়েছে। জরুরি কাজ, সে কারণে যাতায়াত। জরুরি না হলে এ শীতে বের হতাম না।”

ফেরিঘাট মোড়ের শীতের পোশাক বিক্রেতা শুকুর আলী বলেন, “বর্তমানে কাস্টমার একটু বেশি শীতের করণে। গত বছরের থেকে এ বছর বেচা কেনা কিছুটা বেশি।”

জব্বার মার্কেটের নয়ন এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শাওন বলেন, “শীতের শুরুতে এখন এর চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে। এখন ভিড় বেশি, বেচা কিনা স্বাভাবিক।”

পোশাক কিনতে আসা আসাদুল্লাহ বলেন, “গত কয় এক বছর এর চেয়ে এ বছর শীত বেশি হওয়াতে পোশাকের চাহিদা বেশি। এ রকম ঠান্ডা আগে কখন আমি দেখিনি। বাজারে লোকজন বেশি হওয়াতে ঠান্ডা কম মনে হচ্ছে। বাচ্চার জন্য একটা ছয়েটার কিনব, সে জন্য বাজারে আসা।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন