বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

র‌্যাবের সোর্স ফারুখকে গুলি করার ঘটনায় মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

র‌্যাবের সোর্স ফারুখ শেখের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে রহস্যও উদঘাটন হয়নি। শুক্রবার রাতে রূপসার আইচগাতী এলাকায় হত্যার উদ্দ্যেশে দুবৃত্তরা তাকে গুলি করে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ফারুখ শেখ খুলনা গেজেটকে বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রূপসা উপজেলার শিরগাতির বাসিন্দা ফরিদ সর্দারকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। সন্দেহের তীর আমার দিকে দেয় ফরিদের পরিবারের সদস্যরা। ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তন হলে ফরিদ সর্দার, জাহিদ সর্দার, মুসা শিকদার, শিহাব ও শুভসহ অনেকে আমার ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় আমার পা ভেঙে দেয় তারা। দীর্ঘ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসি।”

ফারুখ শেখ আরও জানায়, “শুক্রবার রাতে ব্যক্তিগত কাজে তিনি খুলনায় আসেন। রাত ৯টার দিকে কালিবাড়ি ঘাট পার হয়ে ভ্যানে করে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হন। সাথে ছিলেন বাড়ির পাশের ভাই লাহাবুর। ভ্যানটি আইচগাতি ইউনিয়ন পার হয়ে রাজাপুর আসলে পেছন থেকে একটি এবং সামনে থেকে দু’টি মোটরসাইকেল ভ্যানের গতি রোধ করে। মোটরসাইকেল থেকে নেমে দু’যুবক তাকে উদ্দ্যেশ্যে করে বলতে থাকে আমাদের কার্যক্রমের খবর প্রশাসনে কাছে দাও। এই কথা বলে ভ্যান থেকে নামিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে উঠাতে চায় দুর্বৃত্তরা। তাদের সাথে ফারুখের ধস্তাধস্তি হয়। তারা লাহাবুরের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া সময় সুযোগ বুঝে স্থানীয় একটি ক্লাবের দিকে দৌড় দেয় ফারুখ। দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি করে। প্রথম গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পরের গুলিটি তার কোমরে বিদ্ধ হয়। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে এলাকার মানুষ এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় এক ভ্যান চালক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।”

তিনি আরও জানায়, “ছয়জনের মধ্যে ইমরান নামে একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর (বি কোম্পানী) সহযোগী। স্থানীয় ফরিদ সর্দার ও শিহাবকে এ ঘটনার জন্য তিনি সন্দেহ করছেন। কারণ বি কোম্পানীর সদস্যদের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে।”

আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ ইব্রাহিম শেখ বলেন, “খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ফারুখ শেখ। তার শরীর থেকে সেখানকার চিকিৎসক গুলিটি বের করতে পারেনি। আজ রবিবার তার শরীরে অস্ত্রপচার করবেন চিকিৎসক। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন