নতুন করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়েনি। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে খুলনায় মিলছেনা নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য। বরং নগরীর এক এক দোকানে এক এক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। গত তিন দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি দুইশ টাকা বেড়েছে। গত ২ ডিসেম্বর সর্বশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগামীকাল ৪ জানুয়ারী নতুন বছরের দাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিলিন্ডার গ্যাসের দামের বৃদ্ধির বিষয়ে খুচরা বিক্রেতা অনুপম গ্যাস চুলা সেন্টারের পরিচালক তোবারেক হোসেন বলেন, ইউরোপ জুড়ে অতিরিক্ত শীত পড়ায় গ্যাসের সাপ্লাই কম। এজন্য হঠাৎ করে গত তিনদিন ধরে গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। তিন দিন আগে বসুন্ধরা, ওমেরা ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করেছি ১২৫০ টাকা। তিন দিনের ব্যবধানে ১৪৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য গ্যাস যা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫০ টাকা তা এখন ১৩৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়। নগরীর আসাদ ষ্টোর, জুয়েল এন্টারপ্রাইজ, ইক্করা এন্টারপ্রাইজে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাস ১৩৫০ থেকে ১৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি চাকুরীজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমিত আয়ে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপর যদি এভাবে হঠাৎ করে ইচ্ছে খুশি মত ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করেন তাহলে আমাদের ধার দেনা করা ছাড়া উপায় থাকে না। শ্রমিক চন্দন রায় বলেন, তীব্র শীতে আমাদের দৈনিক কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। তারপরে জ্বালানি সহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হলে চরম বিপদে পড়তে হয়।
নগরীর দোলখোলা ইসলামপুর মোড়ের ব্যবসায়ী আনিছ বলেন, “নতুন বছরে গ্যাসের দাম বাড়বে, এমন খবর জেনে বড় বড় ব্যবসায়ীরা মজুদ রেখেছে। গত দু’দিন ধরে নগরীতে রয়েছে গ্যাসের প্রবল সংকট। কোনো কেম্পানীর গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকটের কারণেই মূলত গ্যাসের দাম বেড়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
