তেলিগাতী কুয়েট রোডে একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খুলনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এইচএসটিটিআই)। প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘ দু’বছরেরও অধিক সময় ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণের অবাধে প্রবেশসহ প্রতিষ্ঠান দুটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব এবং উত্তর সীমানার প্রায় ৮০০ ফুট এবং ৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সীমানা প্রাচীরের ২০ হাজার ইটের কোনো হদিস নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।
গত বছর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান দু’টির সীমানা বরাবর নতুন প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে। যা এখনো চলমান। প্রাচীর অপসারণের ইটের কিছু অংশ সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালকের ক্রয়কৃত জমি থেকে ফেরত আনে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, “সড়কের সৌন্দর্য বর্ধন কাজের জন্য সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের শুরুতে। গত বছরের শুরুতে কুয়েট সড়কের প্রবেশদ্বার থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির সামনের সড়কের ড্রেন নির্মাণ কাজ করার সময় সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।”
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর মোঃ তৌফিক আহম্মদ বলেন, “প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করেছি। সর্বশেষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নতুন সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
তিনি আরো বলেন, “প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক মোঃ বেলায়েত হোসেন ক্যাম্পাসের ভিতর তার নামে বরাদ্দকৃত কক্ষের পাশে রান্নাঘর মেরামতের জন্য দেড় থেকে দুই’শ ইট নেওয়ার কথা বলে। পরবর্তীতে জানতে পারি সে তার ক্রয়কৃত জমিতে কিছু ইট মজুত রেখেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। পরে সে ইট ফেরত দিয়েছে। কিছু ইট দিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতর ফুলের বাগানের কাজ করা হয়েছে। সামান্য কিছু ইট মজুত রয়েছে।”
গাড়ি চালক মোঃ বেলায়েত হোসেন খুলনা গেজেটকে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের সামনের বাউন্ডারি ওয়াল খোলা থাকার কারণে বাইরের লোকজন ইটগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। প্রিন্সিপাল স্যারের অনুমতি নিয়ে কিছু ইট নিয়ে গেছিলাম। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর সেগুলো ফেরত দিয়েছি।”
খুলনা গেজেট/এনএম
