মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মৎস্য সম্পদের গুণগতমান বজায় রাখতে চিংড়ির অপদ্রব্য পুশ বন্ধ করতে হবে। বাগদা এবং গলদার পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে ভেনামির চাষ করা যেতে পারে। তবে আমাদের মুল চিংড়ি উৎপদানে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চিংড়ি এবং ইলিশ আমাদের প্রয়োজন। এর সাথে কোন আপোষ করা চলবেনা। কেননা এটা আমাদের দেশের সম্পদ।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) আয়োজিত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য সেক্টরে উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টায় শ্রিম্প টাওয়ার, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) প্রেসিডেন্ট শাহজাহান চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম জহির। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলম।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন (বিএফএফইএ)’র সাবেক প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন বিকু কাজী, ন্যাশনাল ও অর্গানিকস ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ আশফাক আহমেদ, ফ্রেস ফুডস লিমিটেডের পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, সালাম সী ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আয়নাল গাজী প্রমুখ।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২ টায় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে অবস্থিত টোটাল ফুড প্রসেসিং লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যার কথা শুনে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টোটাল ফুড প্রোসেসিং লিমিটেডের পরিচালক প্রফেসর মেহেদী হাসান, রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিকতা, ফাহিম সী ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাসান পান্না, এসিআাই এগ্রোর বিজনেস ডিরেক্টর মোঃ ইশতিয়াক, এমইউ সী ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দত্ত, লকপুর গ্রুপের ডিএমডি হাবিবুর রহমান, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, রূপসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক, মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস প্রমুখ।
আমাদের বাগেরহাট ও ফকিরহাট প্রতিনিধি জানান, বেলা ১১টায় মৎস্য উপদেষ্টা বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা মৎস্য আড়ত পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মৎস্যখাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মৎস্য আড়তসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, মাছে অপদ্রব্য পুশের মতো অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মাছের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হলে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা জরুরি। পরিদর্শনকালে মৎস্য আড়ত মালিক ও মৎস্যচাষিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ সবুর, খুলনা অঞ্চলের পরিচালক জাহাঙ্গির আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ডা. গোলাম হায়দার, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাসেদুল ইসলাম রানা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস, ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ, চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনছারীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, মৎস্য আড়ত মালিক ও মৎস্যচাষিরা।
খুলনা গেজেট/এএজে
