খুলনার দু’টি কেন্দ্রীয় ও আটটি উপজেলা পর্যায়ের গুদামে মজুদকৃত দেশি চালের পোকা আক্রমণ করেছে। বস্তায় আক্রমণ করা সহজ হওয়ায় গুড়ো ও পদ্ম পোকার বিস্তার বেড়েছে। এসব গুদামে রাখা চাল আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বছরে রাষ্ট্রের ব্যয় হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। ফেনিট্রিথিয়ন-৫০ নামক তরল কীটনাশক সরবরাহ করতে যেয়ে প্রতিবছর ঠিকাদার নিয়োগ করতে হয়। গুদামগুলোর ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিকটন, মজুত ৬৬ হাজার মেট্রিকটন।
প্রতিবছরই বোরো এবং আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ হয়। এ বছরের মাঝামাঝি সময় সংগ্রহকৃত চালের পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় বেড়েছে। গুদামগুলোতে বোরো (সিদ্ধ) চালের মজুত ৪৫ হাজার মেট্রিকটন। বোরো চাল চটের বস্তায় করে মজুত করা হয়। ভারত থেকে আমাদানিকৃত চালের পরিমাণ ২ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন। প্রতি বছরই সিদ্ধ চালে পোকার আক্রমণ হয়। কর্তৃপক্ষ এ জন্য বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্ধ রাখে। গ্রীষ্ম মৌসুমে আক্রমণটা বাড়ে। শীত মৌসুমে কুয়াশায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেনিট্রিথিয়ন নামক তরল কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব হয় না।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন জানান, “সরকারি চাল বাঁচাতে কীটনাশক বাবদ গুদামগুলোতে মাসে এক লাখ টাকা করে ব্যয় হয়। চাল ও গম মজুত থাকলে সেখানে আক্রমণ হয়। এটির বিকল্প ব্যবস্থা এখনও হয়নি। তারপরও সরকারি সিদ্ধান্ত আলোকে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, “বাজারে চালের মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। মজুদ স্বাভাবিক রাখতে মোংলা বন্দরে চাল বোঝাই বিদেশি জাহাজ নোঙর করেছে, খালাস হচ্ছে। মজুতকৃত চাল থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ৩০ টাকা কেজি চাল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।”
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তথ্য দিয়েছেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বার্থে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে জেলার ৮৩ হাজার ১২০ টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবার ১৫ টাকা কেজিতে চাল কেনার সুযোগ পাবে। এক একটি পরিবারের জন্য ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ। আগস্ট-নভেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
খুলনা গেজেট/এনএম
