খুলনার সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেছেন, “একটি আধুনিক, জনবান্ধব এবং জবাবদিহিতা মূলক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। আমরা চাই পুলিশ হবে জনগণের আশ্রয়স্থল, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং মানবিক মর্যাদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।” খুলনার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে অনেকটা খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে মেট্রোপলিটন খুলনা সদর দপ্তরে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “খুলনা আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানকার শিল্প, বন্দর, কৃষি এবং সামাজিক ব্যবস্থা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিক অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, “খুলনার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কঠোর ও অনমনীয় থাকব, কিন্তু পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সেবার মান উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দেব। মাদক, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলব। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা আমাদের জন্য সহায়ক হবে।”
তিনি এরপরও জানান, “সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক শুধু গণতন্ত্রই শক্তিশালী করে না। এটি সুশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের দরজা আপনাদের জন্য সর্বদা খোলা থাকবে। আসুন আমরা সবাই মিলে খুলনাকে আরও নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত শহরে রূপান্তরিত করি।”
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশনস মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, উপ-পুলিশ কমিশনার-সদর এমএম শাকিলুজ্জামান ও উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
খুলনায় কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পর এটি প্রথম সাংবাদিকদের সাথে তার খোলামেলা আলোচনা।
খুলনা গেজেট/এএজে
