জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে সম্ভাব্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। তবে মৌলিক সংস্কার ছাড়া যে কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। নির্বাচন আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগের পর মালতিয়া গ্রামের ধানের চাতালে অনুষ্ঠিত ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে।
উক্ত সমাবেশে ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ছাত্রশিবিরের সাবেক বিদেশ বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষাবিদ ড. একরাম উদ্দিন সুমন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেক্রেটারি মো. মঈন উদ্দিন।
সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এমপি থাকাকালীন সময়ে তিনি রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, শ্মশান ও কবরস্থান উন্নয়নে কাজ করেছেন। পুনঃনির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন। তিনি জানান, মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক মহিলা। আগামী নির্বাচনে প্রতিটি মহিলা ভোটারের কাছে গণজোয়ার সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন ও সালাম পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি জুলাই সনদের সমালোচনা করে বলেন, দেশ বিভাগের ভিত ৪৭ সালের অবদানকে ছোট করা হয়েছে, আলেম-উলামাদের ভূমিকা ও হেফাজতের আত্মদানের কথা উল্লেখ হয়নি। তাই নির্বাচনের আগে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ইতিহাসের যথাযথ স্থান দিতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার বিপ্লবী জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তারা জনগণের আন্দোলন, ত্যাগ ও কুরবানির মুখে বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। তিনি দেশের সত্যিকারের দেশপ্রেমিকদের উদাহরণ টেনে বলেন, দেশভালবাসা মানেই দেশ ছেড়ে পালানো নয়, জনগণের টাকার অপব্যবহার নয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে গিয়ে জনগণ হাসিনাকেও দোষারোপ করেছে। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের রক্তের ঋণ শোধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন বাংলাদেশ হবে পূর্ণ স্বাধীন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সঠিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত।
খুলনা গেজেট/এসএস