ছাত্রনেতা কামাল ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরীক্ষিত সাহসী সৈনিক: মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, প্রয়াত ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সাহসী সৈনিক। দল ও দেশের সংকটময় মুহূর্তে সত্যিকার নেতার ভূমিকা পালন করেছেন। তার চলে যাওয়া দলের জন্য বিরাট শূন্যতা তৈরি করেছে। দেশের বর্তমান ভয়াবহ দুঃসময় ও কারারুদ্ধ অবস্থায় তার অভাব খুব অনুভব করছে নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বাদ জুম্মা দক্ষিন টুটপাড়া বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে সদ্য প্রয়াত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক গনতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী ও প্রতিবাদী নেতৃত্ব, বার বার কারা নির্যাতিত ছাত্রনেতা মরহুম এস এম কামাল হোসেন এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক সাংসদ মঞ্জু আরো বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের সাজানো পাতানো ৭২টি মামলায় অমানুষিক নির্যাতনে শিকার হয়েছিলো এই ছাত্রনেতা। পুলিশের নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলো কামাল। সরকারের নিপীড়ন নির্যাতন একে একে গণতন্ত্রের সংগ্রামী মানুষকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। শুধু কামাল একা নন, আজকে যারা গণতন্ত্রের কথা বলছে, তাদের ওপরও অত্যাচার নির্যাতন চলে আসছে। প্রয়াত ছাত্রনেতা এস এম কামালের শূন্যতা কখনোই পুরন হবার নয়। কামালের রাজনৈতিক কর্মী ও সহযোদ্ধারা কামালকে হারিয়ে ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। বেদনাহত বিএনপি পরিবারের সদস্যরা কামালের মতো রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বেই দলগঠন ও আগামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে চেয়েছিলেন। তাকে হারিয়ে আমরা একটা শূন্যতায় ভুগছি। তাকে হারানোর বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করে আমরা আগামীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিজয় নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ। আলোচনা শেষে ছাত্রনেতা এস এম কামালের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, আমীর এজাজ খান, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ ইকবাল হোসেন, শাহ জালাল বাবলু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু, আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আবু হোসেন বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, মহিবুজ্জামান কচি, শফিকুল আলম তুহিন, আজিজুল হাসান দুলু, এহতেশামুল হক শাওন, মাসুদ পারভেজ বাবু, শের আলম সান্টু, শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, হাসানুর রশিদ মিরাজ, আব্দুল আজিজ সুমন, খন্দকার হাসিবুল হাসান নিক, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মাহবুব হাসান পিয়ারু, এবাদুল হক রুবায়েত, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ইফতেখার জামান নবীন, শামীম আশরাফ, মোহাম্মদ আলী, রবিউল ইসলাম রবি, জাহিদ কামাল টিটো, মাজেদা খাতুন, ইসাহাক তালুকদার, আনিচুর রহমান আরজু, মিজানুর রহমান ডিকেন, এড. রফিকুল ইসলাম, ডা. ফারুক হোসেন, হাবিবুর রহমান কাজল, মাসুদ খান বাদল, ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি, তাজিম বিশ্বাসসহ অনেকে।

দোয়া পরিচালনা করেন বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা ইমরানউল্লাহ, বায়তুস শরিফ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুসফিকুর রহমান ও বায়তুস সুজুক জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. শুকুর ও মাওলানা মো. আবুল। পরে নেতৃবৃন্দ প্রয়াত কামালের একমাত্র শিশুকন্যা ও তার পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে নেতৃবৃন্দ অভিভাবকহীন অসহায় কামালের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবারের সাথে সাক্ষাত শেষে নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের নিয়ে টুটপাড়া কবরস্থানে যান এবং প্রয়াত ছাত্রনেতা কামালের কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর মধ্যরাতে ছাত্রনেতা এস এম কামাল ইন্তেকাল করেছেন। সূত্র : খবর বিজ্ঞপ্তি




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন