যশোরে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের কোনো হীরক খণ্ড (ডায়মন্ড) চালান জব্দ করার রেকর্ড গড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের হীরা ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজিবি গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, হীরার একটি বড় চালান বেনাপোল সীমান্ত অভিমুখে যাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে এদিন সকাল ৮টার দিকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল মহাসড়কের ওপর কৌশলগত অবস্থান নেয়। এসময় বিজিবি সন্দেহভাজন হিসেবে সুজাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি ভারতের তামিলনাড়ু– রাজ্যের আবু বক্করের ছেলে।
তাকে প্রাথমিক তল্লাশিতে কিছু না পাওয়া গেলেও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে ওই ব্যক্তি। এরপর তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫৫.৬৭ গ্রাম ওজনের হীরার সমাহার। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা।
এরপর বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, উদ্ধারকৃত হীরাগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল সুজাউদ্দিনের। তার পাসপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি পেশাদার চোরাচালান চক্রের সদস্য। ইতঃপূর্বে তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় একাধিকবার সন্দেহজনক সফর করেছে।
হীরা ছাড়াও তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৫০ ইউএস ডলার, ৫ হাজার ৮৮০ ভারতীয় রুপি ও ২০০ থাই বাথ। ৫ হাজার ৫৩০ বাংলাদেশি টাকা, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি।
গ্রেপ্তারকৃত সুজাউদ্দিনকে চোরাচালান দমন আইনের কঠোর ধারায় অভিযুক্ত করে যশোর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ডায়মন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হীরার চালানের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

