শুক্রবার । ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২
ইজিবাইক চুরির ঘটনায় দ্বন্দ্ব

যশোরে চোর সিন্ডিকেটের হামলায় যুবক খুন, বাবা-মা-ভাই জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে ইজিবাইক চুরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে একজনকে কুপিয়ে হত্যা ও তার মা, বাবা, ভাইকে গুরুতর জখম করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত চঞ্চল মাহমুদ ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে। আহতরা হলেন-  চঞ্চলের বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন।

ডাকাতিয়ার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী চক্র চঞ্চলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলো, চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, চক্রের সদস্য বিল্লাল হোসেন ও মুন্না।

স্থানীয়রা ও থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে চঞ্চল মাহমুদের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী চঞ্চল এলাকার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম গংকে সন্দেহ করে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে ইজিবাইকটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চোর সিন্ডিকেট প্রথম রবিউল।

এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে মধু গাজীর বাড়িতে রবিউলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় প্রথমে ছেলে চঞ্চলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রবিউল সিন্ডিকেট। গুরুতর জখম হয়ে চঞ্চল মাহমুদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঠেকাতে আসলে তার বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিনকে তারা কুপিয়ে জখম করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটি আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়া চঞ্চল মাহমুদ, তার বাবা মাধু গাজী, ছোট ভাই তুহিন ও মা হাসিনা বেগমকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে আনার পর চঞ্চল মাহমুদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর গুরুতর জখম মধু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের ডাক্তার।

এদিকে, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোর কোতোয়ালি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ কয়েকটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশি অভিযানে আটক হয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, তার সহযোগী মুন্না ও বিলাল।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর মোমিন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ও এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। হাসপাতাল এলাকাতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার দুই সহযোগী বিল্লাল ও মুন্নাকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন