দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা চিকিৎসা সেবার জন্য এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় ২ লাখ নাগরিকের একমাত্র ভরসা। উপকূলীয় এই এলাকায় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ২৫ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৭ জন ডাক্তার নিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। পুরনো ও অচল যন্ত্রপাতি, শয্যার সংকট, আর জনবল ঘাটতি সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা থেকেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমাবদ্ধতার দেয়াল।
শুধু মোংলা নয়, আশেপাশের উপজেলা থেকেও শত শত রোগী প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে এখানে। এই স্রোত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মাত্র ৭ জন ডাক্তার। রোগীর অসহায় চাহনি, শিশুর কান্না তবুও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা। জরাজীর্ণ ভবন আর জনবল সংকটে ধুঁকছে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কাগজে কলমে ৫০ শয্যা কিন্তু রোগীর চাপ অনেক বেশি। চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝে কিংবা বারান্দাতে শুয়েও। যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, ডাক্তার-নার্স সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য যে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা দরকার, তার অনেক কিছুই এখানে নেই। চিকিৎসকরা নিজেরাই স্বীকার করছেন এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে সেবা দেওয়া প্রতিদিনের এক কঠিন পরীক্ষা এবং চ্যালেঞ্জ।
অসহায় এই অবস্থা বদলের দাবিতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধনও করেন স্থানীয় মানুষ। তাদের জোর দাবি এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া, যাতে সবাই পায় সঠিক চিকিৎসার আশ্বাস।
স্থানীয়রা বলেন চিকিৎসকরা আছেন, কিন্তু যন্ত্রপাতি আর বেডের অভাবে সেবা পেতে ভোগান্তির শেষ নেই। রোগীর অবস্থা একটু সংকটা পণ্য হলেই চিকিৎসা সেবা ভালো না থাকায় নিয়ে যেতে হয় শহরে। অনেক সময় অনেক রোগী পথেই মারা যান।
হাসপাতালের, নার্সিং সুপারভাইজার তাপসী মন্ডল বলেন, “অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যায় হাসপাতালটি কে উত্তীর্ণ করা হলে ডাক্তার, স্টাফ, নার্স, বুয়া, সুপারভাইজার, দারোয়ান, পিওন জনবল দিলে আমরা যথাযথ সেবা দিতে পারতাম।”
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) কর্মকর্তা মোঃ তানভীর ইসলাম বলেন, “রোগী বেশি, কিন্তু আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। উন্নত চিকিৎসা দিতে চাই, কিন্তু হাতে সীমিত সরঞ্জাম।”
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহীন জানান, ‘আমরা যতটুকু পারি নিজেদের সাধ্যের ভিতর থেকে এখানকার মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রোগীর চাপ আর যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় অসহায় হয়ে যাই।’
তিনি আরো বলেন, “ইতিমধ্যে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নিকট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।”
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেখানে প্রতিদিন রোগীর ঢল সামলাতে লড়ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আটকে আছে উন্নত চিকিৎসার স্বপ্ন।
খুলনা গেজেট/এনএম