Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট-এতিমখানা এখন ভূতের বাড়ি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

বাগেরহাটে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে থাকা জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট এতিমখানার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এক সময়ে এতিম শিশুদের বিনামূল্যে থাক-খাওয়া, পড়াশুনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির এই অবস্থা হয়ছে। তবে সরকার পরিবর্তনের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি কার্যক্রম।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ৩.৯০ একর জমিতে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট নামে এই প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেণ। উদ্দেশ্য ছিল ১০ থেকে ১৮ বছর এতিম-দুস্থ্যদের লালন-পালন ও স্বাবলম্বি করা এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এসব কাজের জন্য ৫ কক্ষের অফিস ভবন, এতিম-দুস্থ্যদের থাকার জন্য ৩০ শয্যা বিশিষ্ট ২ তলা আবাসিক ভবন, ১৮ কক্ষের ২ তলা প্রশিক্ষন ভবন, এক তলা ক্লিনিক ভবন, মসজিদ, পুকুর, দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সবই ছিল। পরে স্থানীয় শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য ফিডার স্কুল, দর্জি বিজ্ঞান, ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতা শুরু হয়। ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চললে, অর্ধযুগের বেশি সময় সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক সময় ১২ জন ষ্টাফ থাকলেও, বর্তমানে মাত্র দুই জন নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছে। তারাও বেতন পাননা ৯ মাস ধরে।

দেখা যায়, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে ফতেপুর-গোডাউন নামকস্থানে গ্রামীন পাকা রাস্তার পাশে দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর। পলেস্তরা খসে পড়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন আগে নির্মান করা সীমানা প্রাচীর। অস্পষ্ট নাম ফলক ও সবুজ রংয়ের জংধরা লোহার গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই বিশাল এলাকা। গেটের পাশেই জরাজীর্ণ একতলা ভবন, কিছুদূর গেলে আরও কয়েকটি ভাঙ্গাচোরা দেওয়ালে সেদলা পরা পুরাতন ভবন, প্রশস্ত ঘাটওয়ালা পুকুর, সবকিছু দেখে মনে হবে ভূল করে ভূতের বাড়ি ঢুকে পড়েছি। এসব ভবনেই এক সময় দুস্থ ও এতিম শিশুদের বিনামূল্যে বসবাস, পড়াশুনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হত। তবে বর্তমানে মসজিদে নামাজ আদায় ছাড়া আর কোন কাযক্রম চালু নেই। ভবন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালু করার দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নাহার বলেন, “এখানে অনেক বাচ্চারা পড়ত। সকাল বেলা ফিডার স্কুলে ছোট্ট শিশুরা পড়ত। আমাদের বাড়ির বাচ্চারাও ছোট বেলায় এই ফিডার স্কুলে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এলাকার মানুষের উপকার হত।”

জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্টে জমি দানকারী মোঃ আমজাদ খান বলেন, “মানুষজন নিঃস্বার্থে দান করছিল। শুধু মাত্র জিয়াউর রহমানের নামে হওয়ায় আওয়ামী লীগের লোকজন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে।” প্রতিষ্ঠানটি যাতে আবার চালু হয় সেজন্য অনুরোধ করার কথাও জানান তিনি।

সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, জিয়া মেমোরিয়াল অরফানে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে ২৬২ এতিম ও দুস্থ্য পড়াশুনা করেছেন। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ে কোন তথ্য নেই।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন