২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে শক্ত অবস্থান জানিয়ে সুপার এইটে প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেপালকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হিসেবেই শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেছে ক্যারিবীয়রা। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, শিরোপার লড়াইয়ে এবারও তারা অন্যতম দাবিদার।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দল। পাওয়ারপ্লেতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলটি কার্যত ধসে পড়ে। ২৩ রানে চার এবং ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ে নেপাল।
তবে সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দীপেন্দ্র সিং ঐরি ও সোমপাল কামি। ঐরি ছিলেন ইনিংসের মূল ভরসা। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৭ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। অন্য প্রান্তে সোমপাল ১৫ বলে ২৬ রান করে দলের সংগ্রহ এক শ পার করাতে ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে নেপালের ইনিংস।
যদিও শেষের এই লড়াই দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয়, তবু শুরুতে ধস নামার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়নি।১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৩ রান। ব্র্যান্ডন কিং ২২ রান করে ফেরার পর অধিনায়ক শাই হোপ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের জুটি নেপালের বোলারদের কোনো সুযোগই দেয়নি। দুজন মিলে গড়েন ৯১ রানের অপরাজিত জুটি। ৪৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। হেটমায়ার ৩২ বলে ৪৬ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছয়। মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই সহজ জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা।
নেপালের বোলিংয়ে ছিল ধারহীনতা, আর ফিল্ডিংয়েও দেখা গেছে চাপের ছাপ। বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাবই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমান ম্যাচে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। স্কটল্যান্ড ও ইতালির পয়েন্ট ২ করে। অন্যদিকে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে নেপালের।
সুপার এইট নিশ্চিত হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন অপেক্ষা করবে পরের রাউন্ডে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে কারা তাদের প্রতিপক্ষ হয়। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

