শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বিশ্বকাপে না থেকেও বাংলাদেশ ‘লাভের খাতায়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে রেখে এমন অবস্থান নেওয়ার পর শাস্তি, জরিমানা কিংবা ভবিষ্যৎ সুযোগ হারানোর আশঙ্কা ছিল প্রবল। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং বর্তমান সংকট থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কূটনৈতিক ও কাঠামোগত অর্জন।

আইসিসির সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা প্রতিযোগিতামূলক শাস্তি দেওয়া হবে না। আইসিসি এটাও পরিষ্কার করেছে, বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখছে না। বরং এটিকে একটি ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের অবস্থানের পেছনের বাস্তবতা স্বীকার করেছে সংস্থাটি।

মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর ভারত সফর ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হলেও আইসিসি এখন স্বীকার করছে, বাংলাদেশের উদ্বেগ ছিল বাস্তব ও আলোচনার যোগ্য।

আইসিসির ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জরিমানা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে যাওয়ার যে অধিকার বিসিবির রয়েছে, সেটিও বহাল থাকবে। অর্থাৎ প্রশাসনিক ও আইনি-দুই দিক থেকেই বাংলাদেশ থাকছে সুরক্ষিত অবস্থানে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে ভবিষ্যৎ আয়োজনের ক্ষেত্রে। আইসিসি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা এবং বাজারমূল্যের প্রতি আইসিসির আস্থারই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করার কথাও রয়েছে বাংলাদেশের।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ও প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজার। বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিকাশে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও স্বীকার করেছে সংস্থাটি। ভবিষ্যতে খেলোয়াড়, সমর্থক এবং ক্রিকেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বিসিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশ পেয়েছে শাস্তিমুক্তি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং বাড়তি বৈশ্বিক আয়োজনের নিশ্চয়তা। সংকটের মধ্য দিয়ে এই অর্জন প্রমাণ করে, নীতিগত অবস্থানে দৃঢ় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন