Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

আইসিসির নজরদারি বিপিএলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিপিএলের ২০১২ ও ২০১৩ সালের দুই আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বিদেশি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা। তারা ছিলেন মূলত গেম অনের নিয়োগকৃত। ওই কর্মকর্তাদের চোখের সামনে দিয়ে ফিক্সিংয়ে জড়িয়েছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকপক্ষ ও দলটির কয়েকজন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার। প্রথমদিকের মতো গত কয়েকটি বিপিএল স্পট ফিক্সিং ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও গভীরভাবে তদন্তের উদ্যোগ না নেওয়ায় সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিসির দুর্নীতি দমন (এসিইউ) কর্মকর্তারা। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এবারের বিপিএল নানা দিক থেকে বেশি বিতর্কিত ছিল। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির অনিয়মের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আলোচনায় ছিল ফিক্সিং ইস্যু। বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। উদীয়মান ক্রিকেটাররা বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্টও করেছিলেন। যে কারণে এনামুল হক বিজয়কে সিলেট থেকে ঢাকায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা। যদিও গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা না নেওয়ায় সন্দেহভাজন একটি ঘটনাও প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করতে বাধ্য হয়েছিল বিসিবি।

ওই বিশেষ তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের ছাড়াও আইসিসির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশাল একটি রিপোর্ট দেওয়া হবে, যেখানে সুপারিশ থাকবে বেশি। সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করার সুপারিশ থাকবে।’

তদন্ত কমিটির রিপোর্টকে ভিত্তি করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেন অ্যালেক্স মার্শাল। আইসিসি এসিইউর সাবেক এই কর্মকর্তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিপিএলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সরাসরি আইসিসি নজরদারি করবে।

২০২৫-২৬ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বিপিএলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিজের হাতে রাখবে বিসিবি। বোর্ডের একজন পরিচালক বলেন, ‘বিপিএল যে ইমেজ সংকটে পড়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আইসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিপিএলের পরবর্তী দ্বাদশ আসরে এসিইউ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে। এ জন্য টাকা চাইলেও বোর্ড দিতে রাজি আছে। কারণ, অনৈতিক কাজে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ফ্র্যাঞ্চাইজি, দর্শক, বিসিবি কর্মকর্তা– সবাই নজরদারিতে থাকবেন। কেউ একবার সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেলে আইসিসি ছাড় দেবে না।’

একাদশ বিপিএলে সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পেছনে বিসিবি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য করা, সন্দেহ ইস্যুতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া এবং মিডিয়ায় প্রাথমিক তদন্তের উপাত্ত ফাঁস করে দেওয়াকে দায়ী বলে মনে করেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা। নিজস্ব এসিইউ বিভাগ শক্তিশালী করতে আইসিসি এসিইউর সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শালকে কাজে লাগাবে বিসিবি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন