রেকর্ড ৪৮টি দেশ আর প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। আসন্ন এই বিশ্বকাপে নিয়মের বেড়াজালে রাখা হচ্ছে ফুটবলারদের। মূলত খেলার গতি বাড়ানো, বৈষম্য রোধ, সময় নষ্ট কমানো এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পরিবর্তন এনেছে ফিফা ও ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।
খেলার মাঠের লড়াই, উত্তাপ শুরুর আগে দেখে নেওয়া যাক বিশেষ সেই নিয়মগুলো!
১. বিতর্কের সময় মুখ ঢাকলে লাল কার্ড : ফুটবলের মাঠে খেলোয়াড়দের মেজাজ হারানো, উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটনা। তবে কোনো খেলোয়াড় যদি এমন পরিস্থিতিতে হাত, বাহু কিংবা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তাহলে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে পারেন।
২. থ্রো-ইন ও গোল কিক নিতে সময়সীমা : থ্রো-ইন ও গোল কিক নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবারের বিশ্বকাপে। প্রত্যেকবার রেফারি ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবেন। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে খেলা শুরু করতে হবে। ফিফার বিশেষ এই নিয়ম অনুযায়ী, থ্রো-ইনে দেরি হলে প্রতিপক্ষ থ্রো-ইন পাবে। একইভাবে গোল কিকে দেরি হলে প্রতিপক্ষ কর্নার কিক পাবে।
৩. প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লে লাল কার্ড : প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরেও দেখা যেতে পারে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত। তবে ম্যাচের মধ্যে মানতে হবে রেফারির কথাই হবে শেষ কথা। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছাড়লে তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে।
একইভাবে কোনো কর্মকর্তা যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উৎসাহিত করেন, তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. চিকিৎসা নিলে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে : ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময় বিশেষ করে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে সময় নষ্ট করা এক ধরনের কৌশল। ফলে সামান্য চোটেও মাঠে প্রবেশ করানো হয় চিকিৎসকদের। এ ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম এনেছে ফিফা!
নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে চিকিৎসাকর্মীরা প্রবেশ করে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে চিকিৎসা দিলে তাকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।এর উদ্দেশ্য হলো সামান্য আঘাতের অজুহাতে সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমানো। তবে কিছু ক্ষেত্রে যেমন, গোলরক্ষকের চোট, গুরুতর মাথার আঘাত, গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ, পেনাল্টি নেওয়ার নির্ধারিত খেলোয়াড়ের চোটে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
৫. কর্নার বা ফ্রি-কিকের আগের ফাউলও ভিএআর দেখবে : আসন্ন বিশ্বকাপে কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে আক্রমণকারী দলের কোনো স্পষ্ট ফাউল হয়ে থাকলে এবং তা গোল, পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেললে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। প্রয়োজনে রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ করতে বলা হবে।
৬. বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক : প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই প্রায় ২২ মিনিটের দিকে ৩ মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যাই হোক না কেন, এই বিরতি বাধ্যতামূলক। তবে কোনো খেলোয়াড়ের চিকিৎসা চললে রেফারি পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় সমন্বয় করতে পারবেন।
৭. গোলরক্ষকের চিকিৎসার সময় অন্যরা মাঠ ছাড়তে পারবে না : যদি কোনো গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসা নেন, তাহলে দুই দলের অন্য খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে গিয়ে কোচদের সঙ্গে আলাদা আলোচনা করতে পারবেন না। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী সব খেলোয়াড়কে মাঠেই অবস্থান করতে হবে।
খুলনা গেজেট/এমএম

