বৃহস্পতিবার । ১২ই মার্চ, ২০২৬ । ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২

জাকাত মালকে পবিত্র করে

ড. আবু যুবায়ের

আজ ২২ রমজান। নাজাতের দশকের দ্বিতীয় দিন আজ। রমজান মাস নেকি অর্জনের মাস। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াবকে কমপক্ষে সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়। এই জন্য এই মাসে দান-খয়রাত করলে অথবা জাকাত দিলে অন্য মাসের চেয়ে অনেক গুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যাবে।

জাকাত দেওয়ার সময় যদিও রমজানের সঙ্গে সম্পর্কিত না, তার পরেও অনেকে বাড়তি সওয়াব হাসিলের জন্য এই মাসে জাকাত দিয়ে থাকেন। জাকাত হলো মালের উপর গরিবের হক বা অধিকার, এটা কোনো অনুগ্রহ নয় যে দিলাম বা দিলাম না। এই হক মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহই ঠিক করে দিয়েছেন। জাকাত কে আল্লাহ তায়ালা বিত্তবানদের উপর ফরজ করেছেন।

কুরআন শরিফে বার বার আদেশ করা হয়েছে, নামাজ কায়েম কর, জাকাত আদায় কর। জাকাত আদায় করলে মাল পবিত্র হয়। আর জাকাত আদায় না করলে সম্পূর্ণ মালের ভেতর নাপাকি লেগে থাকে। আল্লাহপাক এরশাদ করেন, তাদের সম্পদ হতে জাকাত গ্রহণ করবে। এর দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশোধিত করবে (সূরা তওবা: ১০৩)।

জাকাত দিলে যেমন মালের পবিত্রতা হাসিল হয়, ঠিক তেমনি দ্বীলের পবিত্রতাও হাসিল হয়। তাছাড়া, জাকাত কে ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদ বা ভিত্তির একটি বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। আমরা বিত্তবানরা যদি নিয়মিত জাকাত দিই তাহলে সমাজে কোনো অভাবী, গরীব থাকতে পারে না, কেউ না খেয়ে মরতে পারে না।

ইসলামপূর্ব যুগে তদানীন্তন আরব সমাজে ছিল চরম অভাব-অনটন আর খাদ্যের জন্য হাহা করার। কিন্তু যখন জাকাত ব্যবস্থা চালু হল তখন সমাজ থেকে অভাব এমনভাবে দূর হলো যে আর গরীব লোক পাওয়া যাচ্ছিল না যাকে জাকাত দেওয়া যায়। জাকাত না দিলে পবিত্র কুরআনে ধমকি প্রদর্শন করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না তাদেরকে চরম শাস্তির সংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের ললাটে, পার্শ্বে ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। সেদিন বলা হবে, এটাই তা’ যা’ তোমরা পুঞ্জীভূত করতে (বাকারা:৩৪-৩৫)।

তাই আসুন আমরা আমাদের জাকাত পরিপূর্ণভাবে আদায় করি এবং আমাদের মালকে পবিত্র করি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন