বুধবার । ১১ই মার্চ, ২০২৬ । ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

নিঃস্ব গরিবের হক ফিতরা

ড. আবু যুবায়ের

আজ ২১ রমজান। পবিত্র মাহে রমজানের নাজাতের দশক শুরু হলো। রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ফিতরা অর্থাৎ সদকাতুল ফিতর। ফিতরা আসলে রোজার জাকাত। জাকাত যেমন মালকে পবিত্র করে, ঠিক তেমনি ফিতরাও রোজাকে পবিত্র করে, অর্থাৎ রোজায় যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, ফিতরা তার ক্ষতিপূরণ করে এবং সহিহভাবে রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “রাসুল (সাঃ) সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাকে অনর্থক কথা ও অশ্লীল ব্যবহার হতে পবিত্র করার এবং গরিবের মুখে অন্ন দেওয়ার জন্য (মেশকাত : আবু দাউদ)।” ফিতরা আদায় করা সামর্থ্যবানদের উপর ওয়াজিব।

শরিয়তের পরিভাষায়, ঈদুল ফিতরের দিন সুবহ সাদেকের সময় যার নিকট জাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ অর্থ-সম্পদ থাকে শুধু তার উপরেই সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। তবে জাকাতের নেছাবের ক্ষেত্রে ঘরের আসবাবপত্র বা ঘরের মূল্য ইত্যাদি হিসেবে ধরা হয় না, কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় আসবাবপত্র ছাড়া অন্যান্য আসবাবপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি, খালি ঘর বা ভাড়ার ঘর (যার ভাড়ার উপর তার জীবিকা নির্ভরশীল নয়) এমন কিছুর মূল্যও হিসেবে ধরা হয়।

অর্থাৎ গরিবের সাহায্য, সহযোগিতা দিকটাই এক্ষেত্রে বেশী প্রাধান্য পায়। ফিতরা শুধু রোজার সঙ্গেই সম্পর্কিত এবং তা ঈদের জামাতের পূর্বেই আদায় করা উত্তম। কারণ হাদিসে হুজুর (সাঃ) ঈদের নামাজের পূর্বেই তা দিতে বলেছেন।

এক হাদিসে ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, “একবার তিনি রমজানের শেষের দিকে বললেন, তোমরা তোমাদের রোজার জাকাত (ফিতরা) আদায় কর। নবী করীম (সাঃ) প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তি ও ক্রীতদাস, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর এই জাকাত এক সাআ খেজুর ও যব অথবা আধা সাআ গম (প্রায় ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম) নির্ধারণ করেছেন (মেশকাত : আবু দাউদ, নাসায়ী)।”

তবে এটা হলো ন্যূনতম পরিমাণ। কেই ইচ্ছা করলে এর বেশিও দিতে পারে। এটা তার জন্য বাড়তি ছওয়াবের কারণ হবে। ফিতরা গরীব-নিঃস্বদের হক। এজন্য তা গরিবের মাঝে বণ্টন করতে হবে। সর্বোপরি এটা রোজার যাবতীয় ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষতিপূরণ স্বরূপ।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন