সোমবার । ৯ই মার্চ, ২০২৬ । ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানের শেষ দশকে সওয়াব বাড়ানোর কৌশল

ড. আবু যুবায়ের

আজ ১৯ রমজান। রমজানের মাগফিরাত দশকের আর এক দিন বাকি। তার পরেই শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশক। এই শেষ দশকেই রয়েছে শবে কদরের রাত, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। সেই হিসাবে কদরের এক রাতে আমল করলে এক হাজার মাস বা ৮৩ বছর ৪ মাসেরও বেশী ইবাদত করার সওয়াব পাওয়া যাবে। কারণ, এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “কদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম (সূরা কদর)।” কিছু কৌশলের মাধ্যমে আমরা রমজানের শেষ দশকে সওয়াবকে সীমাহীন বৃদ্ধি করতে পারি।

উদাহরণস্বরূপ, রমজানের শেষ দশকের প্রতি রাতে যদি আমরা ২ রাকাত করে শবে কদরের তালাশে নফল নামাজ পড়ি তাহলে আমরা একটানা ন্যূনতম ৮৩ বছর ৪ মাস প্রতিদিন ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়লে যে সওয়াব পাওয়া যেতো সেই সম পরিমাণ সওয়াব কামায় করতে পারবো। কারণ যে কোনো একদিনের নামাজ শবে কদরের রাতের মধ্যেই থাকবে।

রমজানের শেষ দশকের প্রতি রাতে যদি আমরা, উদাহরণস্বরূপ, ১০ টাকা করে দান করি তাহলে আমরা ন্যূনতম ৮৩ বছর ৪ মাস একটানা প্রতিদিন ১০ টাকা করে দান করার সওয়াব পাবো। কারণ এই দানের একটি দিন অবশ্যই শবে কদরে পড়বে।

হাদিসে এসেছে, সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য (বুখারি)। অর্থাৎ এই সূূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকি অর্জিত হয়। তাহলে আমরা যদি ৩ বার সূরা এখলাস পড়ি তাহলে এক খতম কুরআনের সওয়াব মিলবে। রমজানের শেষ দশকের প্রতি রাতে যদি আমরা ৩ বার সূরা এখলাস পড়ি, তাহলে আমরা ইনশাআল্লাহ ৮৩ বছর ৪ মাসেরও বেশী কুরআন খতমের সওয়াব পাবো। কারণ শেষ দশকের যেকোন একদিন শবে কদর অবশ্যই হবে।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে তার জন্য সারা রাত (নফল) নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে (তিরমিজি)। তাহলে রমজানের শেষ দশকে আমরা ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়লে একটানা ৮৩ বছর ৪ মাস রাত জেগে ইবাদতের সওয়াব পাবো। কারণ রমজানের শেষ দশকের যে কোনো একটি দিন শবে কদরে পড়বে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন