বৃহস্পতিবার । ৫ই মার্চ, ২০২৬ । ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে খারাপ অভ্যাস ত্যাগের অনুশীলন

ড. আবু যুবায়ের

রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক উন্নয়নের মাস। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো (বাকারা:১৮৩)।” তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের মূল পথ হলো খারাপ অভ্যাস ও মন্দ আচরণ পরিত্যাগ করা। রমজান এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সেরা সময়, কারণ শয়তানকে এই মাসে আটকে রাখা হয়।

প্রথমত, রমজানে মিথ্যা, গিবত, চাটুকারিতা এবং অশ্লীল কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “যে ব্যক্তি রোজা রাখে, সে যেন মিথ্যা কথা, কুকর্ম ও অশ্লীল আচরণ থেকে বিরত থাকে (বুখারি ও মুসলিম)।” অর্থাৎ রোজা শুধু খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি নৈতিক শুদ্ধির একটি প্রক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, রমজান হলো ক্ষিপ্রতা, রাগ ও হিংসা নিয়ন্ত্রণের সময়। রমজানে যখন মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে ধৈর্য ধরে, তখন তার রাগ ও অশান্ত মনও প্রশান্ত হয়। এটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগের জন্য চমৎকার অনুশীলন।

তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ব্যয়, ফিল্ম ও অনৈতিক বিনোদন, অনুপযুক্ত সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সংযম হওয়া জরুরি। রমজান হলো এমন সময়, যখন বান্দা তার দৈনন্দিন জীবন, অভ্যাস ও সময় ব্যবহারের মূল্যায়ন করতে পারে। এই মাসে ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যবহার করলে খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা সহজ হয়। চতুর্থত, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইস্তিগফার আমাদের মনকে প্রশান্ত করে এবং মন্দ অভ্যাস থেকে বিরত রাখে।

রমজান হলো খারাপ অভ্যাস ত্যাগ ও আত্মসংযম চর্চার মাস। মিথ্যা, গিবত, রাগ, অশ্লীলতা ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাস থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত ইবাদত ও কুরআন পাঠ, দোয়া ও সদকা-এসব মিলিতভাবে মানুষের চরিত্র শুদ্ধ করে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন