আজ ১২ রমজান। রমজান মাস প্রভূত কল্যাণ ও বরকতের মাস। রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেহরি। রোজা পালনের উদ্দেশ্যে শেষ রাতের খানাকে সাহরী বা সেহরি বলা হয়। সেহরি খাওয়ার মধ্যে অনেক কল্যাণ নিহিত আছে।
হাদিসে রাসুলে কারীম (সাঃ) এরশাদ করেন, “তোমরা সেহরি খাবে, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে (বুখারী, মুসলিম)।”
সাহাবী হজরত ইরবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) বলেন, “একদা রমজানে হুজুর (সাঃ) আমাকে সেহরি খেতে ডাকলেন এবং বললেন, আস বরকতের খানার দিকে আস (আবু দাউদ, নাসায়ী)।”
মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, “অর্ধরাত থেকে সেহরীর সময় শুরু হয়। তবে কোনো কোনো প্রসিদ্ধ মুফাসসিরগণের মতে সেহরি রাতের ছয় ভাগের শেষ ভাগের নাম। অর্থাৎ যদি ১২ ঘণ্টা রাত হয়, তাহলে শেষের দুই ঘণ্টা হবে সেহরীর সময়। তবে শেষের এই মতটিই হাদিসের সর্বাধিক অনুকূলে।
এ প্রসঙ্গে জায়েদ বিন সাবেত (রাঃ) বলেন, “আমরা হুজুর (সাঃ) এর সঙ্গে সেহরি খেয়েছি, অতঃপর নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছি।” রাবি জিজ্ঞাসা করলেন, “সেহরি ও ফজরের নামাজের মধ্যে কি পরিমাণ সময় ছিল?” জায়েদ বিন সাবেত (রাঃ) উত্তর দিলেন, “৫০ আয়াত তেলওয়াত পরিমাণ (বুখারী)।”
এই হাদিসের আলোকে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে সুবহে সাদিকের ৫/৭ মিনিট আগেই সেহরি শেষ করা উচিত। ইফতার সময় হওয়ার সাথে সাথে এবং সেহরি বিলম্বে করা মোস্তাহাব বা উত্তম। যেহেতু সেহরি খাওয়ার মধ্যে অপরিসীম বরকত রয়েছে, সেহেতু সেহরিতে অবশ্যই কিছু না কিছু খাওয়া দরকার। একেবারে উপোস থাকা ঠিক নয়। যদি কিছু খাওয়ার সময় না থাকে তাহলে অন্তত এক গ্লাস পানি বা কয়েকটি খেজুর খেয়ে নিলেও সেহরীর বরকত হাসিল হবে এবং সুন্নতের উপর আমল হবে। কারণ হুজুর (সাঃ) এর সুন্নতের মধ্যেই হেদায়ত ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। সেহরীর সময় উঠার আর একটি বাড়তি ফায়দা হলো: তাহাজ্জুদ নামাজের সুযোগ পাওয়া যায়। আল্লাহর হাবিব (সাঃ) এরশাদ করেন, “আমাদের রোজা আর আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া (মুসলিম)।”
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে নিয়মিত সেহরি করি এবং এর বরকত হাসিল করি।
খুলনা গেজেট/এনএম

