পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশকের আজ ৯ম দিন। রমজান মাস আমাদের জন্য নিয়ে আসে মাগফিরাত বা পাপ মোচনের অপূর্ব সুযোগ। কবির ভাষায়, ‘সাগর-নদীর কূল-কিনারায় ফেনা ভেসে আসে, রমজানের এই বরকত মাসে পাপ চলে যায় ভেসে’। যে এই মাসে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না আল্লাহর রসুল (সাঃ) তাকে হতভাগা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশিষ্ট সাহাবী কায়াব বিন উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদিন হুজুর (সাঃ) এরশাদ করলেন, “তোমরা মিম্বরের নিকটবর্তী হও।” আমরা হাজির হলাম। অতঃপর হুজুর (সাঃ) যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা মোবারক রাখলেন বললেন, “আমিন”। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর। আবার যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, “আমিন”। পুনরায় তৃতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, “আমিন”।
খুতবা শেষে যখন হুজুর (সাঃ) মিম্বর হতে অবতরণ করেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হুজুর! আজ মিম্বরে উঠার সময় যা কিছু শুনলাম তা ইতঃপূর্বে কখনও শুনি নাই। হুজুর (সাঃ) এরশাদ করলেন, “এই মাত্র হজরত জীবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান পেল অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না, আমি বললাম, আমিন। অর্থাৎ তাই হোক। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় জীবরাঈল (আঃ) বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যার সামনে আপনার নাম নেওয়া সত্ত্বেও আপনার প্রতি দরুদ পড়ল না। আমি বললাম, আমিন। আবার যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন জীবরাঈল (আঃ) বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যে তার মাতাপিতা অথবা উভয়ের একজনকে বার্ধক্যে পেল, আর সে তাদের খেদমত দ্বারা নিজেকে জান্নাতে পৌঁছাইতে পারল না। আমি বললাম, আমিন। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর (হাকিম)।”
এই হাদিসে তিনটি জিনিসের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে গুনাহ মাফ করানো, নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পেশ এবং মাতাপিতার খেদমত করা। পিতামাতার সাথে সদব্যবহার করার জন্য আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াতে জোর তাকিদ দিয়েছেন (সূরা নিসা : ৩৬, সূরা আনকাবুত : ৮, সূরা বনী ঈসরাইল : ২৩-২৪, সূরা লুকমান : ১৪)। দরুদ শরীফের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, “নিশ্চয় আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর উপর দরুদ পাঠান। হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তার প্রতি দরুদ বা সালাম পাঠাও (সূরা আহযাব : ৫৬)।” এ ব্যাপারে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, “যে আমার প্রতি একবার দরুদ পেশ করবে আল্লাহ তার উপরে দশটি রহমত প্রেরণ করবেন (মুসলিম)।” তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে এই মহিমান্বিত মাসে এই তিনটি কাজ বেশী বেশী করি এবং মহান আল্লাহর মাগফিরাত হাসিল করি।
খুলনা গেজেট/এনএম

