আজ ৬ রমজান। রমজান মাস সহানুভূতি, সমবেদনা ও সহমর্মিতার মাস। রোজার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সামাজিক সহমর্মিতার এক গভীর ও মানবিক শিক্ষা । সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার অভিজ্ঞতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়-সমাজে অসংখ্য মানুষ আছে যারা প্রতিদিনই অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করে। এই অনুভূতি হৃদয়ে দয়া, মমতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
তাই রমজান কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মাস নয়; এটি সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনেরও সময়। ইসলামে যাকাত, সদকা ও ফিতরার বিধান সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তবমুখী ব্যবস্থা। সামর্থ্যবানরা যখন তাদের সম্পদের একটি অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করেন, তখন সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কিছুটা হলেও কমে এবং সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়।
রমজানে ইফতার ভাগাভাগির সংস্কৃতিও সামাজিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পরিবার, প্রতিবেশী, সহকর্মী এমনকি অচেনা রোজাদারের সঙ্গে ইফতার ভাগ করে নেওয়া ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। অনেকেই এই মাসে নানামুখী স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। ফ্রী খাবার বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, এতিম ও পথশিশুদের সহযোগিতা ইত্যাদি উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি রাগ, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে ক্ষমা ও সহনশীলতার চর্চা সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রমজানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হয়, যখন ব্যক্তি তার আত্মশুদ্ধির প্রভাব পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেয়। একজন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই রমজানের সহমর্মিতার সর্বোচ্চ প্রকাশ।
খুলনা গেজেট/এনএম

