শনিবার । ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৭ই মাঘ, ১৪৩২

শাবান মাসে রোজা রাখা নিয়ে যা জানা জরুরি

গেজেট প্রতিবেদন

আরবি বর্ষপঞ্জিকার অষ্টম মাস শাবান সম্মানিত চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম। রমজানের আগের মাস হওয়ায় মহিমান্বিত এই মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এছাড়াও শাবান মাসের মধ্যভাগে রয়েছে বিশেষ একটি রাত, যা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রাত হিসেবে পরিচিত।

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবি ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাত’ মূলত হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিতে পালন করা হয়।

পবিত্র শাবান মাসকে রমজানের প্রস্তুতির মাসও বলা হয়। এজন্য রাসুল (সা.) রমজানের উদ্দেশ্যে এ মাসের চাঁদের হিসাব রাখতে বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- তোমরা রমজানের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৬৮৪)

অন্যদিকে মহিমান্বিত এই মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা সুন্নত। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) শাবান মাসের চেয়ে বেশি (নফল) সাওম (রোজা) কোনো মাসে পালন করতেন না। তিনি প্রায় পুরা শাবান মাসই সাওম পালন করতেন এবং বলতেন, তোমাদের সাধ্যে যতটুকু কুলোয় ততটুকু (নফল) আমল করো। কারণ, তোমরা (আমল করতে করতে) ক্লান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তা’য়ালা (সওয়াব দান) বন্ধ করেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৪৬)

তবে শাবান মাসের রোজা রাখা নিয়ে প্রায় সময়ই একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। সেটি হলো- অনেকেই মধ্য শাবানে থাকা শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতকে উপলক্ষ করে নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখেন। কেউ কেউ নির্দিষ্টভাবে শবে বরাতের নিয়তে নফল এই রোজা রাখেন। কিন্তু এমনটা করা কি শরিয়তসম্মত?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, রাসুল (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতে বলেছেন। এর অংশ হিসেবে চাইলে শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাতের নিয়ত ছাড়া মধ্য শাবানে রোজা রাখা যেতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মধ্য শাবান বা শবে বরাতকে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা উচিত নয়। এই দিনে নির্দিষ্টভাবে রোজা রাখার ব্যাপারে যেসব হাদিস পাওয়া যায়, সেগুলো বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। অর্থাৎ, সহিহ নয়।

প্রখ্যাত এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, শুধুমাত্র মধ্য শাবানকে নফল রোজার জন্য নির্দিষ্ট করা সঠিক নয়। তবে শাবানের রোজার অংশ হিসেবে যদি অন্য দিনগুলোতে কেউ রোজা রাখেন, সেই হিসেবে চাইলে তিনি মধ্য শাবানেও রোজা রাখতে পারেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

উল্লেখ্য, ফজিলতপূর্ণ মাস হওয়ায় শাবান মাসের বিশেষ রাত ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাতে’ বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শবে বরাতের সব আমলই নফল। আর নফল আমল নিজ নিজ ঘরে একাগ্রচিত্তে আদায় করাই উত্তম।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন