তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে দুস্কৃতির তাণ্ডব

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ওই অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। এমনকি দফতরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি কালীঘাট তৃণমূলের।

ইতিমধ্যে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ঘটনায় শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয় বলে পাল্টা দাবি করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, সবটাও সাজানো ঘটনা। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। যুক্ত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে অভিষেক লিখছেন, ‘আজ ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের উপর এক লজ্জাজনক এবং নগ্ন আক্রমণ।’ তাঁর দাবি, ‘ভোর প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিজেপির গুন্ডারা কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, গোটা অফিস তছনছ করা হয় এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়।’ এমনকি ঘটনার পর পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই বিষয়ে কড়া ভাষায় সামাজিক মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

যদিও এই বিষয়ে পাল্টা কালীঘাট তৃণমূল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, “দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। প্রচারের আলোয় থাকার জন্যেই নিজেরাই এই সব করছে। সবটাই সাজানো।” শুধু তাই নয়, বরাহনগরের বিধায়কের প্রশ্ন, ভোর সাড়ে ৪টের মধ্যে তৃণমূলের কর্মীরা অফিসে কী করছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ। অন্যদিকে পুরো ঘটনা সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে পাল্টা দাবি কালীঘাট তৃণমূলের। এক নেতার কথায়, বুধবারই কাজে দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক। তাঁর অনুপস্থিতির খবর পেয়েই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিনে সংবাদ শিরোনামে ক্যামাক স্ট্রিটের অভিষেকের দফতর। গত বৃহস্পতিবারই এই অফিসে তৃণমূলের বোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন পুর আধিকারিকরা। যা নিয়ে একেবারে হুলস্থুল বেধে যায়। সরকারি কাজে আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। সেই মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরমধ্যেই সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে যান দমকল এবং পুলিশ। ভবনটি তৈরির সময় যে পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার বাইরে কোনও ‘অবৈধ’ নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন