বুধবার থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ভিড় বাড়ছে। অন্যদিকে সংসদের বাইরে ছাত্র-যুব-মহিলাদের সমাগম বাড়ছে। হাসপাতালে সোনাম ওয়াংচুক ভর্তি। রাহুল গান্ধী গ্রেপ্তার। তারপরেও দিল্লিতে ককরোচের আন্দোলনের তীব্রতা আরো শক্তিশালী হচ্ছে। আন্দোলন-বিক্ষোভের ঢেউ এখন বিদেশের মাটিতেও। ঘরে বাইরে বেসামাল মোদী সরকার বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
বুধবার সকাল থেকে ভিড় বাড়ছে যন্তর মন্তরে। এদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘আউট অফ সিলেবাস’ খোঁচা, ৫ দফা দাবি রাহুলের! বিক্ষোভ বিদেশেও।
ছাত্র-যুবদের মিছিলে ‘পুলিশি হামলা’ নিয়ে আলোচনা চেয়ে নোটিস দিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমূল হক। মঙ্গলবারই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘আরশোলাদের’ আন্দোলনে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাসপাতালে এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। আর যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বুধবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি এখন একটাই— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা! শুধু ভারতে নয়, এই আন্দোলনের আঁচ গিয়ে পড়ল নিউ ইয়র্ক, লন্ডনেও। ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে দুই শহরেও। অন্য দিকে, বিজেপি বিরোধী জোটও পথে নেমেছে। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। আটক থাকা অবস্থায় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিও জানান তিনি। এই বিক্ষোভ সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
নিট কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন অন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের বাইরেও আন্দোলন ছড়াতে শুরু করল। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমেরিকার একটি ‘অ্যাডভোকেসি গ্রুপের’ সদস্যেরা নিউ ইয়র্ক এবং সান হোসে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নাম ওই গ্রুপের সদস্যেরা জমায়েত করেন নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গাঁধী মূর্তির সামনে। সেই জমায়েত থেকে উঠল ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবি। শুধু নিউ ইয়র্ক বা সান হোসে-তে নয়, লন্ডন এবং ডাবলিনেও একই ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ওই গ্রুপের সদস্যেরা।
নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত সংসদে পৌঁছোতে পারেননি তাঁরা। সিজেপি এবং বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। সেই আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, উদ্ধব ঠাকরেরা। মঙ্গলবার মোদীর বাসভবনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পরে রাহুলদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া, রাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে যন্তর মন্তরে ইট, পাথর ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
খুলনা গেজেট/এনএম

