উত্তরপ্রদেশের ইটওয়া থেকে মহম্মদ ঘোরীর সেনাপতি সৈয়দ শামসুদ্দিনের মাজার উচ্ছেদের নির্দেশ দিল আদালত।
সংরক্ষিত বনভূমির ওপর নির্মিত মাজার উচ্ছেদের নির্দেশ দিল ইটাওয়া আদালত উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি খবর সামনে এসেছে। সেখানে বন বিভাগের আদালত রায় দিয়েছে যে, সৈয়দ বাবা’ শামসুদ্দিনের মাজার’টি সংরক্ষিত বনভূমির ওপর একটি অবৈধ দখলদারিত্ব। প্রায় ৬৪ দিন ধরে চলা শুনানির পর আদালত এটি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৬, ১৯৩৯ এবং ১৯৪৬ সালের সরকারি গেজেট নথিতে এই বিতর্কিত জমিটিকে ‘সংরক্ষিত বনভূমি’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ‘ভারতীয় বন আইন, ১৯২৭’-এর ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জমিতে বন-বহির্ভূত কোনো কার্যকলাপ আইনত চলতে পারে না।
এদিকে মাজারের প্রতিনিধিদের দাবি ছিল যে, এটি ৮০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং শামসুদ্দিনের স্মৃতিবিজড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি শামসুদ্দিন ছিলেন মহম্মদ ঘোরির বাহিনীর একজন সেনাপতি। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, তারা এই কাঠামোর মালিকানা বা দাবি করা ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করার মতো কোনো নথিপত্র বা আইনি প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। জানা গেছে, এই অবৈধ দখলটি প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
আদালত দখলকৃত অংশটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেও, উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি ঠিক কবে বা কত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে, সে বিষয়ে আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ এর সাথে ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস, জমির নথিপত্র এবং পরিবেশগত আইনের বিষয়গুলো জড়িয়ে আছে; এক পক্ষের মতে এটি বন সুরক্ষা আইন কার্যকর করার একটি পদক্ষেপ, অন্যদিকে অন্য পক্ষ এই স্থানটির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। একটি মহল দাবি করছে, বিজেপি শাসিত প্রতিটি রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

