নদীয়ার হরিণঘাটার দলুইপুর গ্রাম ও আশপাশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আজো আতঙ্কে। এলাকা ঘুরে এসে এই অভিযোগ করলেন সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রতিনিধি দল।
দলের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও কৃষক শাখার নেতা জয়তু দেশমুখ এক বিবৃতিতে জানান, নদীয়ার হরিণঘাটা পৌরসভার প্রান্তসীমায় অবস্থিত সংখ্যালঘু গ্রাম দলুইপুরে সাম্প্রদায়িক হামলার এক সপ্তাহের বেশি কেটে গেছে। কিন্তু ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর ও কল্যানীর গ্রামাঞ্চলের বড় এলাকার সংখ্যালঘু মানুষ আজও প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সমগ্র এলাকার বাজারগুলিতে বড়ো সংখ্যক সবজী উৎপাদক-বিক্রেতা-ক্রেতা কেউ আসছেন না। দলুইপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর রুখে দাঁড়ানো নিরাপরাধ মানুষদের প্রথমে ১৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও একজন স্থানীয় ইমামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলে জানা গেছে। অথচ যে বহিরাগতদের রাত ৮ টা থেকে ১০ টায় ওই গ্রামে তান্ডব করার জন্য সমাবেশিত করা হয়েছিলো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দাঙ্গাবাজ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিজেপি সরকার বলে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের অভিযোগ। সংখ্যালঘুদের এই আতঙ্ক নদীয়া জেলাতেও প্রভাব বিস্তার করছে।
১২ জুলাই সিপিআই (এমএল) লিবারেশন নদীয়া জেলার এক প্রতিনিধিদল ওই গ্রামে তথ্যানুসন্ধানে যায়। সাথে ছিলেন এপিডিআর কৃষ্ণনগর শাখার প্রতিনিধি, চাকদার নবগঠিত ইনসাফ মঞ্চের দায়িত্বশীল প্রমুখ। বিচারবঞ্চিত গ্রামবাসীদের কথাবার্তা বিবরণ শোনা ও তাণ্ডবের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তাঁরা জাগুলিয়া পুলিশ পোস্ট এবং হরিনঘাটা থানা কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বর্তমানে রাজ্যে আইনের শাসনকে যেভাবে সম্পূর্ণ ধুলিসাৎ করা হচ্ছে সেটা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের দোষারোপ করা হয় যে কেন আমরা ওই এলাকায় গিয়েছি! নিষেধ করা হয় যেন সংখ্যালঘুদের নিয়ে আমরা কোন আন্দোলন না করি! এমন কি গ্রেপ্তার হওয়া মানুষকে এ্যারেস্ট মেমো দেওয়া হলেও এফ আই আর-এর কপি দেওয়ার কোন বিধি নেই, সেটা নাকি আদালত থেকে সংগ্রহ করতে হবে – এ জাতীয় কথাও বলা হয়। প্রতিনিধি দল আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নগুলি তুলে ধরেন। এলাকায় শান্তি-সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আগামী কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জয়তু দেশমুখ, বিজয় সাহা, চিন্ময় বিশ্বাস, শেখর চৌধুরী, আদর আলি, মৌতুলি নাগ সরকার, নাজিম সেখ প্রমুখ। গোটা এলাকা এখনো পর্যবেক্ষণে রেখেছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

