পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া আরও দুই শিশুর এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এতে ওই হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। শনিবার (১১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শনাক্ত রোগীদের একজন মেট্রোভিল এলাকার তিন বছর বয়সী এক শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ’ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (এসইএসএসআই) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
শিশুটির বাবা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হলে এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে গুরুতর উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালটিতে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। আদালতের এ নির্দেশ আসে একটি আবেদনের শুনানির প্রেক্ষিতে। ওই আবেদনে দাবি করা হয়, হাসপাতালের কর্মীদের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইডসে আক্রান্ত হয়েছে।
আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে এইচআইভি ভাইরাস। সিন্ধের শ্রমমন্ত্রী ভ্যালিকা হাসপাতালে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনাকে ‘গুরুতর বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে, আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কল্যাণ সহায়তা দিতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (এসইএসএসআই) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

