খামেনিকে দাফনের পর আইআরজিসি প্রধানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফনের পর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদি। তিনি খামেনির হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, এই ঘটনা ‘ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না’। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভাহিদি অপরাধীদের, বিশেষ করে ‘শিশুহত্যাকারী’ মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিশোধ ও উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মহান নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যার মাধ্যমে আমেরিকার নেতারা এবং ইসলামী বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের সব শত্রু প্রতিরোধের পতাকাকে আর কখনো মাটিতে নামাতে পারবে না।’

আইআরজিসি প্রধান বলেন, ‘শহীদদের হত্যার প্রতিশোধ এবং অপরাধীদের শাস্তি একটি চূড়ান্ত, বৈধ ও অবিস্মরণীয় দাবি হয়ে থাকবে।’

ছয় দিনের শোক অনুষ্ঠান শেষে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারের কাছে তাকে দাফন করা হয়। শুক্রবার সকালে সরকারিভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান।

মাশহাদ শহরেই ১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মেছিলেন খামেনি। মৃত্যুর পর একই শহরে তাকে শায়িত করা হলো।

খামেনির দাফনের সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তার মেজো ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন। এ ছাড়া মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ পদে আসীন হন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন