পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানের ওপর নরক নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করা। তারা এটি তৈরির চেষ্টা করলে তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে দেয়াল স্বরূপ। আমার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়। চুক্তিতে তাদের এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে ইরানে ‘যথাযথ নেতৃত্ব’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় অসংখ্য ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ‘অযৌক্তিক নেতৃবৃন্দ’ বিদায় নিয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী শুক্রবার জেনেভায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিন সময় পাবে। ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার দ্বিতীয় ধাপটি ‘আরও সহজ হবে’।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি তাদের ব্যাপারটা জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করছে। এতে অত্যধিক মানুষ মারা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কাউকে খোঁজার জন্য আপনাদের প্রতিবার একটি করে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে। তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত হয়।
ট্রাম্প বলেন, আমি হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ সত্য বলতে আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।
ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালেও চুক্তি টিকে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, টিকে থাকবে। কারণ আমি সেটিকে একটি ছোটোখাটো যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়, তবে আমাদের জন্য সেখানে একটা ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে। এটি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।
এর আগে শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর বোরবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে, তেলবাহী অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
সূত্র: আল জাজিরা
খুলনা গেজেট/এএজে

